অন্যান্য দলজাতীয় পার্টিবিএনপিলিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি

মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল আর নেই

সোমবার ৩১ আগস্ট, ২০২০।। ১৬:৪৫

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বাধীনতাযুদ্ধে ‘বেঙ্গল’ খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও বিএনপির সাবেক নেতা ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল আর নেই ।

সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুর ১ টা ৩০ মিনিটে ঢাকার গ্রীণ লাইফ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেছেন । ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

মরহুমের চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৭ নং পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কর্মজীবনে ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী।

দেশ বরেণ্য বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তার সুনাম রয়েছে।

ইসমাঈল হোসেন বেঙ্গলের জন্মগত নাম হচ্ছে ইসমাঈল হোসেন। একাত্তর সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ঢাকায় বেঙ্গল প্লাটুনের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বীরত্বের সাথে এই কমান্ডারের দায়িত্ব পালন শেষে দেশ স্বাধীন হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে বেঙ্গল খেতাব প্রদান করেন।

যার কারণে তার নামের শেষে বেঙ্গল শব্দটি যুক্ত হয়।

ইসমাঈল হোসেন বেঙ্গল মুক্তিযোদ্ধা সংসদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

পরবর্তীতে এর সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা সংসদের চেয়ারম্যান হিসেবে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন।

এছাড়াও জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের উপদেষ্টা ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের গঠিত প্রথম দল জনদল এর মাধ্যমে।

ইসমাঈল হোসেন বেঙ্গল এই দলের ১নং প্রতিষ্ঠাতা ও সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। এরই মাধ্যমে তার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়।

পরে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি উক্ত দলে যোগ দেন এবং এই দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৮৮ সালের নির্বাচনে সাবেক চাঁদপুর-৬ (বর্তমানে চাঁদপুর-৪) এবং ঢাকা-১০ (রমনা) আসনে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন পান।

কিন্তু পরবর্তীতে দলের সিদ্ধান্তে আর নির্বাচন করেননি।

জাতীয় পার্টির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চীফ কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্ব পালন করেন ১৯৯১ সালের নির্বাচনে।

পরবর্তীতে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং বিএনপির নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন।

এরপর গত বছর বিএনপি ছেড়ে তিনি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপিতে যোগ দেন। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ছিলেন।

ইসমাঈল হোসেন বেঙ্গল জাতীয় পার্টিতে (এরশাদ) থাকাকালে জাতীয় পার্টির দুঃসময়ে ১৯৯০ সালে এরশাদ মুক্তি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন।

জানা গেছে, বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পরে ওয়ান ইলেভেনে দুই নেত্রী গ্রেফতার হলে তাদের মুক্তির দাবিতে বিএনপির হয়ে প্রতিদিন জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা রির্পোটাস ইউনিটি (ডিআরইউ), ফটোজার্নালিষ্ট এসোসিয়েশন ও শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে আন্দোলন ও কর্মসূচি পালন করেছেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতায় অবদান বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি রাজধানী ঢাকার বেঙ্গল প্লাটুনের কমান্ডার ছিলেন এবং বীরত্বের সাথে কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন।

যার কারণে পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক বেঙ্গল খেতাবে ভূষিত হন। তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে “গার্ড অব অনার” সালাম প্রদর্শন করেন লক্ষ লক্ষ মুক্তিযোদ্ধার উপস্থিতিতে।

পরবর্তী সময়ে সারা দেশে ঘুরে ঘুরে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করেন।

আরো পড়ুন: ফেরদৌস আহমেদ কোরেশীর ইন্তেকাল

ন্যাপ’র শোক: মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন বেঙ্গলের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দু:খ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ।

সংগঠনের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া এক শোকবার্তায় মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

তারা বলেন, দেশ মাতৃকার স্বাধীনতা সংগ্রামে বেঙ্গলের অবদান জাতি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।

তারা বলেন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ গঠনে ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে দেশের কল্যাণ ও গণতন্ত্রের জন্য রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনে অত্যান্ত স্বজ্জন হিসাবে পরিচিত ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল সকলের কাছেই ছিলেন সম্মানি।

আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন: https://www.facebook.com/Polnewsbd/ 

Tags

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four × three =

Back to top button
Translate »
Close
Close