যুবলীগলীড

ইউএনও’র ওপর হামলাকারী দু’জনই যুবলীগের

৪ সেপ্টেম্বর ২০২০।। ১২.৩৫

দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও তার বাবার ওপর হামলাকারী অভিযোগে দুইজনকে আটক করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

তারা হলেন- জাহাঙ্গীর হোসেন ও আসাদুল হক।

ইউএনওর মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাতের প্রধান অভিযুক্ত আসাদুল হক ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবলীগের সদস্য।

আর জাহাঙ্গীর হোসেন ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক।

তারা দু’জন সরকারি বাসভবনে প্রবেশ করে ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বাবাকে গুরুতর জখম করেন এই অভিযোগে আটক করা হয়েছে।


শুক্রবার ভোরে হাকিমপুর, বিরামপুর ও ঘোড়াঘাট থানা পুলিশ এবং র‌্যাব রংপুর-১৩ এর একটি দল যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে ভোর ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে দিনাজপুরের হিলির কালিগঞ্জ এলাকায় বোনের বাড়ি থেকে আসাদুল ইসলামকে এবং জাহাঙ্গীর আলমকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে।

তাদেরকে রংপুরে র‌্যাব-১৩ এর কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।


একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আসাদুল ও জাহাঙ্গীর মাদকাসক্ত। এছাড়া চাঁদাবাজিসহ বেশ কিছু অভিযোগ এনে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা যুবলীগের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছিল।

তাদের দুজনেরই বাড়ি ঘোড়াঘাট উপজেলায়।

আরও পড়ুন: সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশী নিহত

অপরদিকে ইউএনও ওয়াহিদা খানমের বাসার নৈশপ্রহরী নাহিদ হোসেন পলাশকেও আটক করা হয়। তার বাড়িও ঘোড়াঘাট উপজেলায়।


স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আসাদুলের বাবা একজন জুতার দোকানি। তবে আসাদুল ওসমানপুরে সিএনজি অটোরিকশা থেকে চাঁদা আদায় করতো।

হাকিমপুর থানার ওসি ফেরদৌস ওয়াহিদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাকিমপুর, বিরামপুর ও ঘোড়াঘাট থানা এবং র‌্যাব রংপুরের একটি দল যৌথভাবে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোররাত ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে হিলির কালিগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসাদুল হককে আটক করে।

ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক নিরুপ সাহা জানান, জাহাঙ্গীর হোসেন ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক।

তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে জেলা যুবলীগের কাছে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে কোনও সিদ্ধান্ত আসেনি।

বুধবার (২ সেপ্টম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদ চত্বরে ইউএনও’র সরকারি বাসভবনে ঢুকে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা।

গেটে দারোয়ানকে বেঁধে ফেলে তারা। পরে বাসার পেছনে গিয়ে মই দিয়ে উঠে ভেনটিলেটর ভেঙে বাসায় প্রবেশ করে হামলাকারীরা।

ভেতরে ঢুকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ইউএনও ওয়াহিদাকে গুরুতর আহত করে তারা।

এ সময় মেয়েকে বাঁচাতে এলে বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখকেও (৭০) জখম করে দুর্বৃত্তরা।

পরে তারা অচেতন হয়ে পড়লে মৃত ভেবে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। ভোরে স্থানীয়রা টের পেয়ে তাদের উদ্ধার করেন।

ওয়াহিদা খানম বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন। অস্ত্রোপচার শেষে তাকে অবজারভেশনে রাখা হয়েছে।

অস্ত্রোপচার সফল হলেও ইউএনও ওয়াহিদা আশঙ্কামুক্ত নন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ফেসবুক পেজ লাইক করুন: https://www.facebook.com/Polnewsbd/

Tags

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 × three =

Back to top button
Translate »
Close
Close