আওয়ামী লীগকৃষক লীগতাঁতী লীগযুবলীগলীডশ্রমিক লীগস্বেচ্ছাসেবক লীগ

পাবনায় আওয়ামী লীগের নির্বাচনী সভায় সংঘর্ষ: আহত ২৫

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০।। ২০.৩০

পাবনা জেলা প্রতিনিধি

পাবনা-৪ আসনের উপ-নির্বাচনের আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন: গুলশানে বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে সংঘর্ষ

বর্ধিত সভাস্থলে এবং দলীয় কার্যালয়ের মধ্যেই একাধিক নেতাকর্মীর ছুরিকাঘাতের ঘটনাও ঘটেছে।

উপ-নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু ও সাধারণ সম্পাদক ইছাহক আলী মালিথার সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ বেলা ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত চলতে থাকে।

এ সংঘর্ষের কারণে ঈশ্বরদীর উপজেলা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

আহতের মধ্যে রয়েছেন- ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল কালাম আজাদ মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক ইসাহাক মালিথা,

আওয়ামী লীগ নেতা আবু কালাম, মুলাডুলি ইউনিয়ন কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কার মালিথা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির মালিথা,

পৌর যুবলীগের সভাপতি আলাউদ্দিন বিপ্লব, উপজেলা চেয়ারম্যানের ছেলে যুবলীগ কর্মী নাজিম উদ্দিন রনি খান,

পৌর যুবলীগের সাবেক সভাপতি সানোয়ার হোসেন লাবু, রিকশা চালক ওলিউর রহমান, যুবলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম,

৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আজিজ, ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলবার হোসেন ও যুবলীগ নেতা আমিরুল ইসলাম।

এসময় ঈশ্বরদী পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ মিন্টুও সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

গুরুতর আহত দুইজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সংঘর্ষের পর উদ্ভুত পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল

সাংবাদিকদের জানান, ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে কিছু বিষয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। তার জেরেই এই অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

আমরা ইতিমধ্যেই ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর যুবলীগ এবং ছাত্রলীগের কার্যক্রম স্থগিত করেছি।

সংঘর্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে দলীয় ভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস তেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপনির্বাচন উপলক্ষে ঈশ্বরদীতে নির্বাচনী সভায় কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামালসহ অতিথিদের বরণ করতে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন ঈশ্বরদীর নেতারা।

এ সময় সামনে দাঁড়ানো নিয়ে ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টুর সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক ইসাহাক মালিথার কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি শুরু হয়।

এক পর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানস্থলের চেয়ার একে অপরের দিকে ছুঁড়ে মারতে থাকেন। দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও এসময় সংঘর্ষ থামাতে ব্যর্থ হন।

পরে দফায় দফায় সংঘর্ষ অন্যান্য নেতা-কর্মীদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়লে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের মধ্যেই

ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন যুবলীগ নেতা সানোয়ার হোসেন লাবু ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম খানের ছেলে রনি খান।

তাদের দু’জনকে প্রথমে পাবনা ও পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা ভর্তি করা হয়।

এ হামলার ঘটনায় বিবাদমান দু’পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে।

পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ মিন্টু বলেন, জামাত-শিবির অনুসারীরা আসন্ন নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করতে একের পর এক অপতৎপরতা চালাচ্ছে।

অপ্রীতিকর ঘটনার পেছনে তারাই দায়ী বলে দাবি মিন্টুর।

আহত সাধারণ সম্পাদক ইসহাক মালিথা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই আবুল কালাম আজাদ

মিন্টু নোংরামি করে আসছে। মাঝে মধ্যেই দলীয় কার্যালয়ের একক দখল নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সামনেই পরিকল্পিতভাবে পৌর মেয়র এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার

জন্ম দিয়েছেন। ঘটনাগুলো স্বচক্ষেই কেন্দ্রীয় নেতারা দেখেছেন। নিশ্চয়ই তারা এ বিষয়ে তদন্ত করবেন।

পৌর মেয়রের শাস্তি দাবি করে তিনি আরো বলেন, যদি আমি ঘটনার দায়ী হই তাহলে আমার যে শাস্তি দেবেন তা আমি মাথা পেতে নেব।

এ সংঘর্ষের ঘটনায় ঈশ্বরদী শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন: https://www.facebook.com/Polnewsbd/

Tags

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

16 − three =

Back to top button
Translate »
Close
Close