বিএনপিবিশেষ রিপোর্টলীড

গুলশানে কেমন আছেন খালেদা জিয়া

০২ অক্টোবর ২০২০।। ১৮.০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

গুলশানে কেমন আছেন খালেদা জিয়া এই প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে। দলের নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষও জানতে চাইছেন।

তবে শর্ত সাপেক্ষে জামিনে মুক্তির পর গুলশানে বাসায় খালেদা জিয়া যেমন ছিলেন তেমনই আছেন।

তার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি নেই বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আরো পড়ুন: খালেদা জিয়ার মানসিক কষ্টটা কমেছে: নজরুল ইসলাম

শুক্রবার (০২ অক্টোবর) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ম্যাডাম যেমন ছিলেন তেমনই আছেন। খুব একটা …।

ডাক্তার সাহেবরা যেটা বলেছেন সেটা শুনেছেন আপনারা। তাতে খুব একটা উন্নতি তার হয়নি।

উপরন্তু তার বড় যেটা সমস্যা হয়ে গেছে আবার তিনি খেতেও পারছেন না এখন।

৭৫ বছর বয়েসী খালেদা জিয়া দুর্নীতির দায়ে সাজা প্রাপ্ত হন ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি।

এরপর তিনি কারাবন্দি অবস্থায় ডায়াবেটিক, আর্থারাইটিসহ চোখের সমস্যা অসুস্থ হয়ে পড়েন।

পরে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিতসাধীন ছিলেন দীর্ঘদিন। শর্ত সাপেক্ষে গত ২৫ মার্চ তাকে প্রথমে মুক্তি দেয়া হয়।

এরপর সম্প্রতি তার মুক্তির মেয়াদ আরো ছয় মাস বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে গুলশানের বাসবভন ‘ফিরোজায়’ অবস্থান করছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

‘ব্রিটিশ হাইকমিশনারকে ধন্যবাদ’

সরকার অনুমতি দিলে খালেদা জিয়াকে চিকিতসার জন্য বৃটেন যেতে ভিসা দেবে- ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট ডিকশনের এরকম বক্তব্যের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন,

ব্রিটেন এখনো একটা ডেমোক্রেটিক কান্ট্রি। তাদের মধ্যে সভ্যতা, ভদ্রতা-এই বিষয়গুলো এখনো যথেষ্ট অন্যান্য যেকোনো দেশের চাইতে।

তারা একটা গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে একজন গণতান্ত্রিক নেতা তার প্রতি তাদের যে দায়িত্ব সেই কথাটাই তারা বলেছেন। তাদেরকে (ব্রিটিশ সরকার) ধন্যবাদ জানাই আমি।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা তাকে (হাইকমিশনার) ধন্যবাদ জানাই যে, তিনি তার ডেমোক্রেটিক গ্যাশচার একজন ডেমোক্রেটিক লীডারের প্রতি, ফরমার প্রাইম মিস্টারের প্রতি- এ জন্য আমরা তাকে ধন্যবাদ জানাই।

বেগম জিয়ার বিদেশ যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এই বিষয়টা নির্ভর করছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চাওয়া এবং সরকারের দেওয়া।

বেগম জিয়া যদি যেতে চান এবং সেটা যদি পরিবারের পক্ষ থেকে বা আমাদের পক্ষ থেকে যে পক্ষই হোক যদি সরকারের কাছে বলে। সরকার যদি দেয়।

তাহলে তো তিনি যেতে পারবেন, তার আগে তো উনি যেতে পারবেন না।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এখন পর্যন্ত যেটা আছে যে শর্ত। সেই শর্তে তো যাওয়ার কোনো বিষয় নাই।

এখন পর্যন্ত দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কিছু বলেননি, তার পরিবারের পক্ষ থেকেও কিছু বলা হয়নি।

গত ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়ার সাজা ছয় মাস স্থগিত করে তাকে মুক্তি দেয়া হয়।

এরপর থেকে তিনি গুলশানের বাসায় কোয়ারেইনটাইটের মধ্যে বাস করছেন।  ছয় মাসের সেই মেয়াদ পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার আরো ছয় মাস স্থগিত করে সেপ্টেম্বর মাসে।

‘মেজর সিনহা হত্যার ফলোআপ কোথায়’

মির্জা ফখরুল বলেন, আপনারা লক্ষ্য করে দেখবেন, এতো বড় একটা ঘটনা ঘটলো মেজর সিনহা হত্যা। কই? হোয়ার ইজ দ্যা ফলোআপ?

আপনি মিন্নীর ফাঁসি দিচ্ছেন, অন্যান্যদের ফাঁসি দিচ্ছেন। তো এটা (মেজর সিনহা হত্যার বিষয়টা) দ্রুত সামনে আসছে না কেনো? অন দ্যা স্পট মাডার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এটাই কারণ যে, তারা রাষ্ট্রযন্ত্রগুলোকে পুরোপুরিভাবে নিজেদের কবজায় নিয়ে কাজ করতে চাইছে। কাউকে অখুশি করতে চায় না।

মির্জা ফখরুল আরো বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আজকে অবনতিটা কেনো? যারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিত লক্ষ্য রাখবে তারা তো সরকারের কাছে কোনো দায়বদ্ধতা নাই তো।

তাদের জন্য সরকার টিকে আছে। তারা বলেও তাই, ক্লেইম করে তাই।

আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন: https://www.facebook.com/Polnewsbd/

Tags

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × 2 =

Back to top button
Translate »
Close
Close