ছাত্র রাজনীতিছাত্রদলছাত্রলীগ

আশরাফুল আলম খোকনের স্ট্যাটাস, জাবি ছাত্রদলের চ্যালেঞ্জ

১০ অক্টোবর ২০২০।। ০১.৩০

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোচিত ব্যক্তি জসিম উদ্দিন মানিকের বিরুদ্ধে ‘ধর্ষণের সেঞ্চুরি’ করার অভিযোগ বেশ পুরনো।

দেশে কোন ধর্ষণের ঘটনা ঘটলেই এবং তার সাথে বর্তমান সরকার দলীয় কারো সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠলেই সেই ধর্ষণের সেঞ্চুরির কথা তুলে ধরা হয়।

তবে সেই ‘ধর্ষণের সেঞ্চুরি’ তথ্যটিকে অপপ্রচার এবং জসিম উদ্দিন মানিককে ছাত্রদলের নেতা বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন।

তিনি সম্প্রতি তার ফেসবুকে ‘ধর্ষণের সেঞ্চুরি ! একটি গুজবের আত্মকাহিনী’ শিরোনামে একটি লেখা লিখেছেন।

আরও পড়ুন: ধর্ষণের সেঞ্চুরি ! একটি গুজবের আত্মকাহিনী

যেখানে তিনি জসিম উদ্দিন মানিকের বিরুদ্ধে কিভাবে অপপ্রচার চালিয়ে ধর্ষণের সেঞ্চুরিয়ান বানানো হয় এবং তার ছাত্র রাজনীতির কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন।

তার এই লেখাটিকে মনগড়া, মিথ্যার বেসাতিপূর্ণ, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও কুরুচিপূর্ণ বলে দাবি করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলনের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস বিষয়ে ও ধর্ষক মানিকের সাথে ছাত্রদলকে জড়িয়ে নির্লজ্জ মিথ্যাচার করেছেন এবং বানোয়াট ও মনগড়া কাহিনী তুলে ধরে বর্তমান প্রজন্মকে ছাত্রলীগের সেই অপকর্মের বিষয়ে বিভ্রান্ত করার অপপ্রয়াস চালিয়েছেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম সৈকত স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আশরাফুল আলম খোকন তার লেখায় বলেছেন, বহুল আলােচিত সেই ধর্ষক জসিম উদ্দিন মানিক প্রথমে শহীদ সালাম বরকত হল শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং পরে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবির বাবু-আসাদ কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

কিন্তু প্রকৃত সত্য হল, জসিম উদ্দিন মানিক শহীদ সালাম বরকত হলের ছাত্রই ছিলেন না। তিনি ছিলেন মীর মোশাররফ হােসেন হলের আবাসিক ছাত্র।

১৯৯৩-৯৪ সালে শহীদ সালাম বরকত হল শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন একরামুল খবির স্বপন (পরিসংখ্যান বিভাগ)।

আর বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির কথিত সাবির বাবু একই ব্যক্তি ছিলেন না। বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেই সাবির-আসাদ কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন সাইদুর রহমান বাবু।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের পক্ষ থেকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলা হয়, জসিম উদ্দিন মানিক নামের কেউ কোনদিন শহীদ সালাম বরকত হল শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিল না।

সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের একের পর এক নারী নিপীড়নের ঘটনায় যখন দেশজুড়ে প্রতিবাদের জোয়ার বইছে, মানুষ যখন প্রতিবাদ করতে রাস্তায় নেমে আসছে, তখন দেশবাসীর মনোযোগকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা এবং তরুণ প্রজন্মকে ছাত্রলীগের এসব অপকর্মের বিষয়ে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যেই সরকারের দায়িত্বশীল পদে থেকে পরিকল্পিত মিথ্যাচার করা হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ্য করা হয়, ১৯৯১-৯২ শিক্ষাবর্ষে জসিম উদ্দিন মানিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে ভর্তি হন।

তিনি তৎকালীন উপ-উপাচার্য, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক তাইজুল ইসলামের আত্মীয় ছিলেন।

এছাড়াও মানিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের আওয়ামী ঘরানার শিক্ষক

(তৎকালীন প্রক্টর অধ্যাপক আফসার আহমদ এবং এনামুল হক শামীমের (তৎকালীন

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি) ভাগ্নে হিসেবে ক্যাম্পাসে সবার কাছে পরিচিত ছিলেন।

তিনি ১৯৯৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

তৎকালীন সময়ের বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকার প্রতিবেদন এবং ছাত্রলীগের কারণ দর্শানো বহিষ্কারাদেশের নোটিশেই এর প্রমাণ পাওয়া যায়।

ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বলা হয়, খোকন বলেছেন যে, মানিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগগুলো নাকি তদন্ত কমিটি কর্তৃক তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।

অথচ তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হওয়াতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিরতরে বহিষ্কার করা হয়।

দেশব্যাপী তৈরি হওয়া প্রবল জনমত ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের চাপে

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগও তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করে। এরপর তিনি তদন্ত কমিটির ডাকে সাড়া না দিয়ে ইতালিতে পাড়ি জমান।

জাবি ছাত্রদল দাবি করেছে যে, তিতুমীর কলেজে উচ্চমাধ্যমিকে পড়ার সময়েও জসিম

উদ্দিন মানিক ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন এবং সেখানেও তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ ছিল।

মানিককে বাঁচানোর জন্য সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছিল দাবি করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা

হয়, একজন গুরুতর অপরাধী সরকারের সহযোগিতা ছাড়া কিভাবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তাধীন থাকা অবস্থাতেই বিদেশে পালিয়ে যেতে পারে?

ছাত্রদল আশরাফুল আলম খোকনের বক্তব্য প্রত্যাহার ও জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানায়।

অন্যথায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল দেশের মানুষকে সাথে নিয়ে ইতিহাস বিকৃতির এসব অপচেষ্টার সমুচিত জবাব দিবে বলে উল্লেখ করা হয়।

ফেসবুক পেজ লাইক করুন: https://www.facebook.com/Polnewsbd/

Tags

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

10 + 12 =

Back to top button
Translate »
Close
Close