ছাত্র ইউনিয়নছাত্র রাজনীতি

খোকনের লেখা ‘গুজবের আত্মকাহিনী’ : নতুন গুজবের অবতারণা বলছে ছাত্র ইউনিয়ন

১১ অক্টোবর ২০২০।। ০২.৩২

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাহাঙ্গীর বিশ্ববিদ্যালয়ের জসিম উদ্দিন মানিকের ‘ধর্ষণের সেঞ্চুরি’ নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন।

তার লেখায় তিনি জসিম উদ্দিন মানিকের ছাত্ররাজনীতির জীবন ও কিভাবে তাকে ধর্ষণের সেঞ্চুরিয়ান বানানো হয়েছে তা তুলে ধরেছেন।

আরও পড়ুন: ধর্ষণের সেঞ্চুরি ! একটি গুজবের আত্মকাহিনী

তাঁর এই লেখাকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে বিকৃতভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা বলে মনে করছে ছাত্র ইউনিয়ন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মিখা পিরেগু ও সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হক এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, জনাব খোকন দাবি করেছেন, ১৯৯৯ সালের আগষ্ট মাসে মানবজমিন পত্রিকায় ধর্ষণের সংবাদ প্রথম প্রকাশিত হয়।

কিন্তু প্রকৃত তথ্য হচ্ছে ঐ পত্রিকায় তিন ছাত্রী ধর্ষণের সংবাদটি প্রকাশিত হয় ১৭ আগস্ট ১৯৯৮ সালে।

এর তিন দিন পর একই খবর প্রকাশিত হয় ডেইলি স্টারে। একই মাসে ধারাবাহিকভাবে আরো বেশকিছু জাতীয় দৈনিকে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

নেতৃদ্বয় বলেন, বিভিন্ন কল্পনাপ্রসূত গাল-গল্প ফেড়ে খোকন প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন যে ধর্ষক জসিম উদ্দিন মানিক প্রকৃত ছাত্রলীগ কর্মী নন, এমনকি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ধর্ষক মানিককে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অফিসিয়ালি স্বীকৃতি দেয়নি।

আরও পড়ুন: আশরাফুল আলম খোকনের স্ট্যাটাস, জাবি ছাত্রদলের চ্যালেঞ্জ

তার লেখায় আন্দোলনরত শিক্ষকদের সাথে ছাত্রলীগের ত্যাগী নেতাকর্মীদের যোগসাজেশের কল্পিত বয়ান উপস্থাপন করলেও ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন অবস্থায় ১৯৯৮ সালের ২৩ আগস্ট নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক রেহনুমা আহমেদ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীর হাতে বর্বরোচিত হামলার শিকার হন।

এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সাত দিন পর বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদ লিখিতভাবে জাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন মানিক, সহ-সভাপতি হামিদুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক হাসিবুর রহমান বরকত ও মওলানা ভাসানী হল ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুল আলম বাবুকে লিখিতভাবে কারণ দর্শানো নোটিশ দেয় এবং অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ১ সেপ্টেম্বর ১৯৯৮ সালে তাদেরকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বহিষ্কার করে।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ধর্ষক জসিম উদ্দিন মানিকের ভিন্ন রাজনৈতিক চরিত্রের

অবতারণা করে আশরাফুল আলম খোকন আসলে চেষ্টা করেছেন এরূপ অপরাধের সাথে ক্ষমতার সম্পর্ককে অস্বীকার করতে।

যখনই সরকারি দল কিংবা ত্যর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীর মাধ্যমে একের পর

এক অপরাধ সংঘটিত কাবার অভিযোগ আসতে থাকে, তখনই এধরণের কুযুক্তির ফুলঝুরি

ছুটাতে রাষ্ট্রের কর্তাব্যক্তি থেকে শুরু করে দলান্ধ চাটুকার ও নব্য দালাল সকলে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সারাদেশ যখন উত্তাল, তখন অতীতের ধর্ষণবিরোধী

আন্দোলনের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস নিয়ে মনগড়া তথ্য ছড়িয়ে চলমান আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা ছাড়া এই লেম্বা আর কিছুই নয় ।

ছাত্র ইউনিয়নের বিবৃতিতে বলা হয়, খোকন তার লেখায় মানিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের

অভিযোগের ব্যাপারে উল্লেখ করেন, সুনির্দিষ্ট কিছু না পেয়ে তদন্ত কমিটি সবকিছুই খারিজ করে দেয়।

কিন্তু ৩ সেপ্টেম্বর ১৯৯৮ সালে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় ধর্ষণ ও শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনা প্রমাণিত হয় এবং ২২ সেপ্টেম্বর ১৯৯৮ সালে অনুষ্ঠিত সিক্রিকেট সভায় ধর্ষক মানিকসহ জনকে ধর্ষণের ঘটনায় চিহ্নিত করা হয়।

২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৯৮ সালে সিন্ডিকেট সভায় ধর্ষণের অভিযােগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ধর্ষক মানিককে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিরতরে বহিষ্কার করা হয়।

আশরাফুল আলম খোকনকে উদ্দেশ্য করে ছাত্র নেতারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিযোগ আহ্বান করলে শতাধিক ছাত্রী অভিযােগ দেয়।

প্রকৃত তথ্য হচ্ছে সত্যতা যাচাই কমিটির কাছে চিঠি জমা পড়ে ৪৪৩ টি।

এরকম নানান অপরাধের অসংখ্য অভিযোগ এবং ২১৩ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনের সার্বিক

বিশ্লেষণ থেকে এটা দিবালোকের মত স্পষ্ট হয়ে উঠে যে শতাধিক ধর্ষণ এবং অগণিত

নিপীড়নের ঘটনার সাথে ধর্ষক মানিক ও তার সহযোগীরা সম্পৃক্ত।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেই যখন ২০টি ধর্ষণ ও ৩০০’র অধিক নিপীড়নের প্রমাণ মিলে, তখন বাস্তবে সেই সংখ্যাটি যে আরো কয়েকগুণ বেশি, তা প্রশ্নাতীত।

অথচ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস সম্পর্কে ন্যূনতম জ্ঞান না রাখা খোকন ধর্ষণের সেঞ্চুরিয়ান মানিকের ভয়ংকর ও

কলঙ্কজনক ইতিহাসকে “গুজবের আত্মকাহিনী” হিসেবে প্রচার করে নতুন গুজবের অবতারণা করেছেন!

আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন: https://www.facebook.com/Polnewsbd/ 

Tags

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eleven − 9 =

Back to top button
Translate »
Close
Close