অন্যান্য দললীড

মধ্যবর্তী নির্বাচন দিলে প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতা হারাবে: ডা. জাফরুল্লাহ

১৩ অক্টোবর ২০২০।। ২১.০৪

নিজস্ব প্রতিবেদক

মধ্যবর্তী নির্বাচন দিলে প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতা হারাবেন বলে মন্তব্য করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে শুধু খারাপ কাজ করেছে তা নয়। তিনি ভালো কাজও করেছেন। তাহলে একটা মধ্যবর্তী নির্বাচন দিয়ে দেখেন না।

আরও পড়ুন: নির্বাচন কমিশন বিধ্বস্ত নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরো দুর্বল করছে: মির্জা ফখরুল

আর জনগণের কাছে গিয়ে বলবেন আমি ফাঁসি এনেছি। এই ফাঁসির পক্ষে জনগণ যদি আপনাকে ভোট দেয় তাহলে মনে করব আমরা ভুল ছিলাম। উনি সঠিক ছিলেন।

কিন্তু উনি জানেন আজ মধ্যবর্তী নির্বাচন হলে উনি ক্ষমতা হারাবে। জনগণ নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে।

জনগণ যদি নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে তাহলে দেশ কল্যাণ কর হবে। যে জন্য মুক্তিযুদ্ধ করেছিল সেই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হবে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় স্মরণ মঞ্চের উদ্যোগে বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল স্মরণে নাগরিক শোক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বিরোধীদলের সকল নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে আপনারা রাস্তায় নামুন।

আমি হাটতে পারি না। আপনাদের সাথে চলতে না পারলেও আপনাদের পিছনে পিছনে থাকবো।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ঘরে বসে আযান দিলে কেউ শুনবে না। সত্তিকারের ন্যায় প্রতিষ্ঠা করেন।

আমরা আপনাকে সম্মান করবো। বঙ্গবন্ধু যে ভুল করেছিল আপনি সে ভুল করবেন না।

বঙ্গবন্ধুর অনেক গুণ ছিল কিন্তু অন্যের কথায় বাকশাল কায়েম করেছিল। সিরাজ সিকদারকে হারিয়েছিল। তাই ন্যায়ের পথে চলেন।

সরকারের উদ্দেশ্যে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি নয়, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করেন। তাহলে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।

কয়েকদিন যাবত আমরা যা দেখছি এই ধর্ষণ, নারী নির্যাতন হঠাৎ করে মানুষ খারাপ হয়ে গেল? না। দেশে অনাচার থাকলে, দুর্নীতি থাকলে, সুশাসনের অভাব থাকলে এটা ঘটানো হয়।

এইসব জিনিস নিজে থেকে ঘটছে তা না। এটা ভারত উপলক্ষ সৃষ্টি করছে। যাতে আমাদের এখানে তারা হস্তক্ষেপ করতে পারে।

তিনি বলেন, দেখেন কত দ্রুত একটা আইন করে ফেললো । ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি। এটা কোন উত্তর হতে পারে না।

এটা শুধুমাত্র ড্রাইভেশন, এটা পথ কে অন্য দিকে ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়া। আসলে এর প্রতিকার কি?

এর প্রতিকার হল ন্যায়বিচার। আর এই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হলে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

ডাক্তার জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভুল কাজ করছেন। ফাঁসি অত্যন্ত একটি ভুল কাজ। এরচেয়ে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করেন।

ন্যায় বিচার কোনো কঠিন কাজ না।দ্রুত ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করলে ১৫ দিন বা ৭ দিনের মধ্যেই যারা ধর্ষক তাদের ৮০ পার্সেন্ট ধরা পড়ে যাবে।

তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট গঠন করে বিচার করেন। আর যারা ধরা পরবে না তাদের জন্য আলাদা মামলা করেন। তাহলে দেখবেন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।

গণস্বাস্থ্যে কেন্দ্রের এই প্রতিষ্ঠাতা বলেন, ২০১৮ সালে দিনের নির্বাচন রাত্রে হয়েছিল। সেই নির্বাচনের পরে বিএনপির ৭০ জন প্রার্থী মামলা করেছিল।

সেই মামলার জন্য একদিনও কোর্ট বসেনি। বিচারপতিরা তাদের বিবেকের কাছে এর জবাব কি দিবেন?

কিন্তু তাদের কাজ হলো অপরাধীদের মুক্তি দিয়ে দেওয়া।আর যারা নির্দোষ তাদেরকে আটক করে রাখা। কোর্টের বারান্দায় বারান্দায় ঘোরানো।

সংগঠনের সহ-সভাপতি লায়ন আলামীনের সভাপতিত্বে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন-

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপি চেয়ারপারসন উপদেষ্টা কবি আবদুল হাই শিকদার,

মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি উলফাত আজিজ, সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, গণস্বাস্থ্যের প্রেস উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু,

লেখক এস এম নজরুল ইসলাম, ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক দিদারুল ইসলাম প্রমুখ।

আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন: https://www.facebook.com/Polnewsbd/

Tags

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

19 − nine =

Back to top button
Translate »
Close
Close