আরো সংবাদজাসাসবিএনপিমতামত

স্বাধীনতার অর্ধশত বছর : বিএনপির কাছে জনগণের চাওয়া

২২ নভেম্বর ২০২০।। ২২.০০

শায়রুল কবির খান

আগামী বছরে স্বাধীন বাংলাদেশের বয়স ৫০ বছর হতে যাচ্ছে। কিন্তু এখনো এ দেশে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া সম্ভব হয়ে উঠেনি।

তবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হাত ধরে বহুদলীয় গণতন্ত্রের চারা রোপিত হয়েছিল। ওই গণতন্ত্র এত দিনে বিশাল বৃক্ষে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।

কিন্তু হয়নি। এরপর দৃশ্যপটে এলেন জেনারেল এরশাদ। তার বিরুদ্ধে ৯ বছর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে তিন জোট ও সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ। সম্মিলিত আন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারের পতন ঘটে।

তারপর ১৯৯১ সালে প্রথম নিরপেক্ষ, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে জয়লাভ করলো বিএনপি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকার সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করলেন। ১৯৯১- এ গণতান্ত্রিক অবস্থার পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরী হয়। প্রথম দেড় দশকের সাফল্য আরো বড় সম্ভাবনা সৃষ্টি করলেও ২০০৬ সালের শেষ দিকে রাজনৈতিক সঙ্কটের প্রেক্ষাপটে অপ্রত্যক্ষ সেনাশাসনের সূচনা ঘটে।

এর ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালের শেষে একটি পরিকল্পিত নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে বেসামরিক নির্বাচিত সরকার গঠিত হয়।

আশা করা হচ্ছিল, এর মাধ্যমে বাংলাদেশ কর্তৃত্ববাদ শাসনের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। আসলে না, তৈরী হলো আরো বিপদের আশঙ্কা। হলো সংবিধান পরিবর্তন। নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করার দিনেই বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, বাংলাদেশ কর্তৃত্ববাদ শাসনব্যবস্থার দিকে যাচ্ছে।

আরো পড়ুন:মাওলানা ভাসানীর কথা শুনলে দেশ ব্রুনাই হতো: ডা. জাফরুল্লাহ

২০১৪ সালে সকল বিরোধী দলের নির্বাচন বর্জনের মধ্যে দিয়ে ক্ষমতাসীনরা একতরফাভাবে নির্বাচন করে ক্ষমতায় টিকে থাকে। যার ফলে সংসদে এখন বিরোধী দলের অস্তিত্ব নেই। তার ওপর আরো কর্তৃত্ববাদের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে ২০১৮ সালে ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন ২৯ ডিসেম্বর রাতে রাষ্ট্রযন্ত্রের সহায়তায় দখল করে নিয়ে ক্ষমতায় আঁকড়ে থেকে।

বাংলাদেশের ইতিহাস বিবেচনা করলে দেখা যায় আমাদের স্বাধীনতার মূল বাণীটি ছিল গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষা। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের তিনটি ভিত্তি : মানবিক মর্যাদা, সাম্যাবস্থা ও সামাজিক ন্যায়বিচার। যার সারবস্তু নাগরিকের সমতা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের নিশ্চয়তা। এর প্রতিশ্রুতি নিয়ে দেশ স্বাধীন হলেও বাংলাদেশ গণতন্ত্র শুধু প্রাতিষ্ঠানিক রূপলাভেই ব্যর্থ হয়েছে তা নয়, এখন কয়েক দফায় কর্তৃত্ববাদ শাসনের অভিজ্ঞতায় দেশটি আবার সেই পথেরই যাত্রী।

২০১৮ নির্বাচনের আগে সমাজ ও রাজনীতিবিষয়ক আলোচনায় গণমাধ্যমেই হোক আর নীতিনির্ধারক পর্যায়েই হোক বারবার আলোচিত হচ্ছিল সমাজ ও রাজনীতিতে ধর্মের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা। বাংলাদেশে অর্থনীতির চিত্র ও মধ্যবৃত্তের বিকাশের ফলে বাংলাদেশের শ্রেণী কাঠামো দ্রুত পরিবর্তন হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যানে আছে ১৯৭২ সালে কোটিপতি অ্যাকাউন্টধারী ছিল পাঁচজন। ১৯৭৫ সালে ডিসেম্বরে দাঁড়ায় ৪৭ জন। ১৯৮০ সালে ডিসেম্বরে ছিল ১০০ জনের বেশি।

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বিরাষ্ট্রীয়করণ প্রক্রিয়ার ধারাবাহিক সুফলতায় ১৯৯০ সালে ডিসেম্বরে ৯ শতকের কাছাকাছি। ১৯৯১ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বিএনপি সরকারের সময়ে ১৯৯৬ জুনে কোটিপতি সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৩ হাজার। বাংলাদেশের অর্থনীতির চিত্র তুলে ধরে টাইম ম্যাগাজিন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবি দিয়ে কভার প্রতিবেদন করেছিল ‘ইর্মাজিং টাইগার’ অবহিত করে। ২০০১ সালের শেষে সংখ্যাটি হয় প্রায় ৫ হাজার। ২০০৭ সালে ১০ হাজার ছাড়িয়ে যায়।

বিরাষ্ট্রীয়করণের ফলে বেসরকারি উদ্যোগে বিনিয়োগ আসে। রফতানি পণ্যে যোগ হয় তৈরী পোশাক। সেইসাথে আসে প্রবাসী শ্রমিকের কষ্টার্জিত আয়। কৃষকের উৎপাদনও বাড়ে। এত কিছুর পেছনে চাবিকাঠি হলো খেটে খাওয়া বিপুল জনগোষ্ঠী। তবে গণতন্ত্রকে ভঙ্গুর রেখে জিডিপি প্রবৃদ্ধির অর্থনীতিকে সামনে রেখে যতই বাহাবা নেবার চেষ্টা করুক তাতে হালে পানি পাবে না।

কারণ জনগণের মূল আকাঙ্ক্ষা গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু এই কর্তৃত্ববাদী সরকার নিজের স্বার্থে সেটিই বিকিয়ে দিয়েছে। ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে ‘উন্নয়ন’কে গণতন্ত্রের বিকল্প হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা হচ্ছে। তা কি এই খেটে খাওয়া মধ্যবৃত্ত শ্রেণী ও উঠতি ধনিক শ্রেণীর কাছে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হচ্ছে? এ দেশের মানুষের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা বিশ্লেষণ করলে কী পাই?

বাংলাদেশের মানুষ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ও স্বাধীনচেতা। সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে বন্ধুত্বের নামে আধিপত্যবাদের বিরোধী। বিশ্ব দরবারে জাতি রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ। এর সকল বৈশিষ্ট্যের কারণে রাজনৈতিক নেতৃত্বের জায়গায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী- দল বিএনপি’কে ঘিরে বিপুল জনভিত্তির সৃষ্টি হয়েছে। এই দলের আছে বিশাল সাংগঠনিক কাঠামো। রয়েছে নেতৃত্বের ধারাবাহিক গুণাবলী। তবে সময়ের চাহিদাকে পূরণ করে নতুন আঙ্গিকে নাগরিকদের জন্য নিজেকে বিকশিত করে তুলতে হবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপিকে। বিএনপি অবশ্যই তা করবে।

আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন: https://www.facebook.com/Polnewsbd/

লেখক পরিচিত : সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী

Tags

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eighteen − 14 =

Back to top button
Translate »
Close
Close