বিএনপিলীডশ্রমিক দল

সরকার দেশকে লাইফ সাপোর্টে নিয়ে গেছে: গয়েশ্বর

শ্রমিক দলের দোয় মাহফিল

২৪ নভেম্বর ২০২০।। ১৫.০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকার দেশকে লাইফ সাপোর্টে নিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে মঙ্গলবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ওবায়দুল কাদের বলেছেন- বিএনপি ভেন্টিলেশন আছে, লাইফ সাপোর্টে আছে।

কিন্তু ওবায়দুল কাদের সাহেব আপনারা পুরো দেশটাকে তো লাইফ সাপোর্টে রাখছেন।

এখন ইনডিভিজুয়ালি কোন দল, কোন ব্যাক্তি লাইফ সাপোর্টে আছে-এটা নির্ণয় করা তো খুব কঠিন।

কারণ দেশটা টিকবে কিনা সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছে মানুষ। কে যে ভেন্টিলেশনে আছেন, কে যে নাই-এটা অনুধাবণ বা উপলব্ধি করতে যদি পারতেন তাহলে অনেক আগেই মন্ত্রিসভা ছেড়ে দিতেন।

আরো পড়ুন:দুর্নীতির ব্যাপকতায় স্বাধীনতার চেতনা বিলীন হয়ে গেছে: গয়েশ্বর

গয়েশ্বর অভিযোগ তুলে বলেন, এই রক্ত দিয়ে কেনা অর্জিত বাংলাদেশ, মা-বোনের সম্ভ্রমহানি করে বাংলাদেশ, সেই বাংলাদেশটা বাংলাদেশের জনগণের হাতে নাই। আপনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আছেন, দেশটা আপনারও হাতে নাই।

আপনি তো প্রধানমন্ত্রী না, আপনি হলেন পুতুল। আপনি নাচেন, আপনাকে কে নাচায় সেটা আপনিই ভালো করে জানেন।

আমরা পুতুল নাচ দেখাতেছি গণভবনে।

নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল মহানগর দক্ষিণের উদ্যোগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৬তম জন্মদিন উপলক্ষে এই দোয়া মাহফিল হয়।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ঘিরে চাঁদাবাজি

গয়েশ্বর বলেন, বাংলাদেশের একজন অবিসংবাদিত নেতা তাকে ছোট করে ভাববার কোনো কারণ নাই, শেখ মুজিবুর রহমানের ৩৬৫দিনের জন্মদিন পালন হচ্ছে মুজিব শতবার্ষিকী।

ব্যাংক, বীমা, শিল্প-কল-কারখানা মালিকনা বলতে পারবেন তাদের থেকে কত টাকা আদায় করা হয়েছে।

কী পরিমাণ চাঁদাবাজি হইছে। আর কি পরিমাণ রাষ্ট্রীয় টাকা খরচ হইছে তার তো হিসাব নাই।

এই সবগুলো যদি একখানে করা হয় একটা জন্মদিনের তাহলে বাংলাদেশের একবছরের বাজেটের টাকা হবে।

তিনি বলেন, এই জন্মদিন পালন করতে গিয়ে অতি উৎসাহীরা শেখ মুজিবকে বাথরুমের মধ্যে ঢুকাই দিছে। ওদের টিস্যুর মধ্যে শেখ মুজিবের ছবি ছাপাইছে।

এই টিস্যু কিসে ব্যবহার হয়? ভালো কাজে ব্যবহার হয়, না। তারা শেখ মুজিবকে নামতে নামতে নামতে একেবারে লেট্রিনের মধ্যে নিয়ে গেছে।

অথচ এই ব্যক্তিটির তার জীবনে যতটুকু অবদান আছে, সেই অবদানের জন্য বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, সংগ্রামের ইতিহাসে একটা বিরাট অংশ তিনি দখল করে আছেন।

তার জন্য তার মেয়ের এতো কিছু করার দরকার নাই। আর এই যে ঘুষ-দুর্নীতির টাকা দিয়ে জন্মদিন পালন করে তার প্রতি কী তারা শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন নাকী অপমান করছেন?

বিএনপির নেতৃত্বে জন্মদিন পালনের প্রসঙ্গে গয়েশ্বর বলেন, আমরা জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের জন্মদিন পালন করি।

তার জন্য তো আমাগো চাঁদা তুলতে হয় না, তার জন্য তো আমাদের সরকারের কাছে টাকা চাইতে হয় না।

তার জন্য তো ‘করতেই হবে’-একথা বলতে হয় না। আমাদের মন আছে, অন্তর আছে।

আমাদের সমর্থ যতটুকু থাকুক না কেনো ততটুকু থেকেই আমরা মন-হৃদয় থেকে তারেক রহমানের জন্য দোয়া করি।

তিনি সুস্থ হবেন, দেশে ফিরবেন, দেশপ্রেমী জাতীয়তাবাদী শক্তির নেতৃত্ব দিচ্ছেন, আগামী দিনে স্বশরীরে দেবেন। বাংলাদেশে গণতন্ত্র মুক্ত হবে।

একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ যেই ভাবনা থেকে আমরা যুদ্ধ করেছি সেই চেতনা পুনর্জ্জীবিত হবে।

আমরা এভাবে শতবার্ষিকীর মতো রাষ্ট্রীয় টাকা অপচয় করে তারেক রহমানের জন্মদিন পালন করবো না।

দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, চিন্তা এবং দুশ্চিন্তা- দুটো জায়গার মধ্যে বিএনপি আছে, শহীদ জিয়া বীরোত্তম আছেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আছেন, তারেক রহমান আছেন।

সাধারণ মানুষের কাছে আছেন চিন্তার মধ্যে। আর এই স্বৈরাচারী সরকারের কাছে আছেন দুশ্চিন্তার মধ্যে।

সুতরাং কথা একটাই- যারা দেশ শাসন করছেন গায়ের জোরে, তারা ঘৃণ্য করেন আর ভালোবাসেন যেটাই করে বিএনপিকে নিয়ে, সেটাই করেন তারেক রহমানকে নিয়ে।

ওইখানেই আমাদের কৃতিত্ব দুটোই আমাদের পক্ষে। কারণ আপনারা আমাদের নিয়ে ভাবেন, চিন্তা করেন, দুশ্চিন্তা করেন।

এটা তো রাজনীতির প্রাপ্য বিএনপির। ১৪ বছরের মাথায় এসেও দেখেন বিএনপির সমর্থক বেড়েছে, বিন্দুমাত্র কমে নাই।

যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, আয়না নিজের চেহারা দেখুন, নিজের দলের চেহারা দেখুন।

আওয়ামী লীগ তথা আওয়ামী লীগে কি কোনো রাজনৈতিক কর্মী আছে? আওয়ামী লীগের আছে জিকে শামীম, ক্যাসিনো সম্রাট, সাবরিনা, পাপিয়া, শাহেদ।

এই গুন্ডা-পান্ডা-লুটেরা-ধর্ষনকারী ছাড়া আওয়ামী লীগে আর এখন কেউ নাই।

সুতরাং আমি বলব, বিএনপির দিকে তাকিয়ে লাভ নাই।

নিজের দলের দিকে তাকান। আপনার দল শুধু লাইফ সাপোর্টে না, গলে-পঁচে গন্ধ বেরুচ্ছে।

কখন কোথায় দাফন করবেন সেই চিন্তা করেন, বিএনপিকে নিয়ে আপনার ভাবতে হবে না।

মহানগর দক্ষিনের সভাপতি কাজী মো. আমির খসুরর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম বাদলের পরিচালনায় দোয়া মাহফিলে

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, মহানগর দক্ষিন বিএনপির হাবিবুর রশীদ হাবিব ও শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আনোয়ার হোসেইন বক্তব্য রাখেন।

আমাদের ফেসবুক পেজ লাইক করুন: https://www.facebook.com/Polnewsbd/

Tags

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

thirteen − 8 =

Back to top button
Translate »
Close
Close