বিএনপিলীড

“খালেদা জিয়ার ওপর চলছে বন্য বিচারের জুলুম”

আন্তর্জাতিক নারী দিবসের বাণীতে বিএনপি

০৭ মার্চ ২০২১।। ১৩.১৫

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের অবদান অনস্বীকার্য বলে জানিয়েছে বিএনপি। সেইসাথে বর্তমান দু:সময়ে নারী ও শিশুরা অতি মাত্রায় নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। অন্যদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ওপর চলছে বন্য বিচারের জুলুম।

৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল নারীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে রোববার (০৭ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতি দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়- নারী সমাজের অব্যাহত সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করি।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস একটি অত্যন্ত তাৎপর্যময় দিন। বিশ্বব্যাপী নারী জাগরণ সৃষ্টি, নারীর অধিকার সম্পর্কে সচেতন এবং নারী সমাজের কল্যাণে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে এ দিবসটি পালিত হয়। বাংলাদেশে এ দিবসটির গুরুত্ব অপরিসীম।

আরো পড়ুন: ধর্ষণ বন্ধ ও ধর্ষকদের বিচারের দাবিতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

বিবৃতিতে বলা হয়- আমাদের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। তাই নারী সমাজের অগ্রগতি সাধিত হলে মানব জাতির সামগ্রিক অগ্রগতি সম্ভব হবে।

এ সত্যটি উপলব্ধি করেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কর্মকান্ডে নারীর অধিকতর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।

তারই ধারাবাহিকতায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকার এ দেশের নারী সমাজের উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচী বাস্তবায়ন করেছেন।

নারী সমাজের অশিক্ষার অন্ধকার ঘুচিয়ে শিক্ষার ব্যাপক প্রসারের জন্য বেগম জিয়ার সরকার অনেক কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

বিনা বেতনে নারীর পড়ালেখার যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। ফলে নারীর ক্ষমতায়ন এবং উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় তাদেরকে সম্পৃক্ত করার কারণে তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জেগে উঠে।

একইসঙ্গে তারা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ খুঁজে পেয়েছে। নারীদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও পুরুষদের সঙ্গে প্রতিযোগিতার সমান সুযোগে সমাজের অগ্রগতি ও রাষ্ট্রের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।

বদলে যাওয়া বিশ্বের কর্মপরিবেশে নারীর সরব উপস্থিতি নিশ্চিত করতে আমাদের একযোগে কাজ করতে হবে।

বিএনপির বিবৃতিতে বলা হয়- বাংলাদেশ এখন নৈরাজ্যের অন্ধকারে নিমজ্জিত। নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতার মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া একজন নারী অথচ তাঁকে সীমাহীন হয়রানি ও হেনস্তা করার জন্য মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে।

নারী দিবসে দু:শাসন ও অনাচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের প্রত্যয় ঘোষণা করতে হবে।

শান্তি, নিরাপত্তা, মানবাধিকার এবং টেকসই উন্নয়নে বৈশ্বিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে অপরিহার্য শর্ত হলো নারীর অধিকার।

নারী সমাজ যাতে অবহেলা, নির্যাতন ও নিপীড়ণের শিকার এবং ন্যায্য অধিকার থেকে তারা যাতে বঞ্চিত না হয় সেদিকে সবার সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।

বৈশ্বিক কর্মযজ্ঞে নারী-পুরুষের সমতায়ন এখন সর্বপ্রথম এজেন্ডা হওয়া উচিৎ।

আজকের এই শুভ দিনে নারী সমাজের উন্নয়ন ও কল্যাণে আন্তরিকভাবে কাজ করার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানাই।

এবারের আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মূল প্রতিপাদ্য “নেতৃত্বে নারী” এর সফলতা কামনা করছি।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়- প্রতি বছর মার্চ মাসের ৮ তারিখে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের গুরুত্ব অপরিসীম। ক্ষমতার প্রশ্নে লিঙ্গ সমস্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

অর্ধেকেরও বেশী নারী অধ্যুষিত বাংলাদেশের নারীরা সবসময়ই থেকেছে অবহেলিত।

‘বিশ্বব্যাপী  যা কিছু সৃষ্টি চিরকল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর’ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর এই ঐতিহাসিক নারী কবিতার লাইনটির যথার্থতা অনুধাবন করে আমাদের দেশের নারীদের কল্যাণে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রশংসনীয় উদ্যোগে নারীরা আজ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হয়েছে।

শহীদ জিয়াই প্রথম মহিলা ও শিশু মন্ত্রনালয় গঠন করেছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন নারীর বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। নারীদের উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণে শহীদ জিয়া এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান তৃতীয় বিশ্বে একটি মডেল হিসেবে বিবেচিত হয়।

তাঁদের যথাযথ উদ্যোগের কারণেই বাংলাদেশে পিছিয়ে থাকা নারীরা নিজেদেরকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে অনেকটাই সক্ষম হয়েছে।

এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বর্তমানে রক্ষা করা হয়নি। বরং বর্তমান শাসনকালে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে নারীর প্রতি সহিংসতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বর্তমান দু:সময়ে নারী ও শিশুরা অতি মাত্রায় নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রতিহিংসার শিকার হয়ে বন্দী।

নারী হলেও তাঁর ওপর চালানো হচ্ছে বন্য বিচারের জুলুম। এই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি’র অবসান ঘটাতে হবে।

এবারের আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মূল থিম  “নেতৃত্বে নারী” এর সফলতা কামনা করছি।আন্তর্জাতিক নারী দিবসের এই শুভক্ষণে নারী সমাজের প্রতি গুরুত্বারোপসহ তাদের সার্বিক উন্নয়নে সকলকে আন্তরিকভাবে কাজ করার জন্য উদাত্ত আহবান জানাই।

ফেসবুক পেজ লাইক করুন: https://www.facebook.com/Polnewsbd/

আমাদের টুইটার প্রোফাইল ফলো করুন: https://twitter.com/BdPolitical

Tags

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fifteen − ten =

Back to top button
Translate »
Close
Close