কৃষক দলবিএনপি

কৃষকদের জন্য কৃষক দলের ১২ দফা দাবি

কৃষক দলের ৪র্থ সম্মেলনে শুক্রবার

১০ মার্চ ২০২১।। ১২.৩০

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের ৪র্থ জাতীয় সম্মেলন আগামী শুক্রবার (১২ মার্চ ২০২১) সকাল ১০ টায় মহানগর নাট্যমঞ্চ (কাজী বশির মিলনায়তন) গুলিস্তান ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে।

সেইসাথে দেশের কৃষকদের জন্য ১২ দফা দাবি সরকারের উদ্দেশ্যে পেশ করেছে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল।

নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব জানান কৃষক দলের আহ্বায়ক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু।

আরো পড়ুন: বিএনপি কৃষক দল যুবদল ছাত্রদলের ৫ নেতা বহিষ্কার

তিনি বলেন, আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্ষমতাসীন হয়ে দেশের কৃষিখাতে যুগান্তকারী কর্মসূচী গ্রহণের ফলে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে বিদেশে খাদ্য রপ্তানী করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

তারই ধারাবাহিকতায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ১৯৯১-১৯৯৬ এবং ২০০১-২০০৬ সালে শাসন আমলে বৈপ্লবিক কর্মসূচি গ্রহণের ফলে দেশের কৃষি ব্যবস্থা উন্নতির চরম শিখরে পৌছে যায়।

আমাদের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশকে কৃষি শিল্পের দেশ হিসেবে গড়ে তোলার কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন।

বলা যায় বাংলাদেশের কৃষি এবং কৃষকের জন্য যা কিছু কল্যাণকর তার সবই করেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান,দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

তাদের অনুসরণ করে চলেছেন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নেতা তারেক রহমান। ঐতিহাসিক তত্বাবাধায়ক সরকার ব্যবস্থা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৬ সালের ১৫ ফ্রেব্রুয়ারীর নির্বাচনে জয়লাভ করার পর ৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদে পাস করে।

কৃষকদের জন্য কৃষক দলের ১২ দফা দাবি

দুদু বলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন অবৈধ সরকার ও তাদের দোসররা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সর্ম্পকে নানা ধরণের অপপ্রচার চালাচ্ছে।

৩ বারের সফল প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জননেতা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একের পর এক ভিত্তিহীন মিথ্যা ,বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রনোদিত মামলা দায়ের করেই চলেছে।

বাংলাদেশের কৃষক সমাজ বর্তমান অবৈধ সরকারের এই অপপ্রচার ও মামলাবাজী চরিত্রের তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানায়। অবিলম্বে অপপ্রাচার বন্ধ এবং হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলায় দেওয়া সাজা বাতিল ও মুক্তির দাবী করছি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং শ্রম শক্তির সবচেয়ে বড় যোগানদার এ দেশের কৃষি ব্যবস্থা । দেশের ৮০ শতাংশ মানুষ এখনো প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল।

দেশের ৭০ শতাংশেরও বেশী জনশক্তি কৃষি কাজে নিয়োজিত আছে। দেশ যে  বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ে গর্ব করে তার ৯০ ভাগই আসে কৃষকের সন্তানদের প্রেরিত অর্থ থেকে।

দেশের সকল শিল্প প্রতিষ্ঠানে সস্তা শ্রমের যোগানও আসে কৃষকের সন্তানদের মাধ্যমে। দেশের উৎপাদিত এবং আমদানীকৃত সকল পণ্যের সবচেয়ে বড় ভোক্তাও এদেশের কৃষক সমাজ। অথচ বাংলাদেশের কৃষক কূল আজ দিশেহারা।

তিনি বলেন, গত ৫ জানুয়ারি ২০১৪ ভোটার ও প্রার্থীবিহীন তামাশার নির্বাচনের ও ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ রাতের মধ্যেরাতে ভোট নামে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী বর্তমান হাসিনা সরকার দেশের কৃষক সমাজকে ধ্বংসের শেষ প্রান্তে নিয়ে এসেছে।

দেশের প্রতিটি কৃষক নানাভাবে বঞ্চিত ও নিগৃহীত হচ্ছে অথচ তাদের পাশে কথিত সরকারের কেউ দাঁড়াচ্ছে না। কোথাও কোথাও অবৈধ ক্ষমতাসীনদের লালিত সন্ত্রাসীরা কৃষকের জমি জমা দখল করছে আবার কোথাও ফসল, পুকুরের মাছ,গবাদী পশু গাছ-পালা কেটে লুটতরাজ করে নিয়ে যাচ্ছে। কৃষক নির্বিঘ্নে তার প্রয়োজনে জমি ক্রয়-বিক্রয় করতে পারে না ক্ষমতাসীন দালাল ফড়িয়াদের কারণে।

দুদু আরো বলেন, বর্তমান অবৈধ সরকারের ওপর মহলের লুটপাটের কারণে কৃষকের উৎপাদনের সাথে জড়িত সার, বীজ, ডিজেল, বিদ্যুৎ, কীটনাশকসহ সকল উপকরণের মূল্য দফায় দফায় বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন খরচ বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, অথচ কৃষক তার উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না।

প্রতিটি মৌসুমে দেশের কৃষকূল বাড়তি টাকা খরচ করে ধানে বাম্পার ফলন ফলাতে সক্ষম হয়। কৃষকের গোলায় ,চাতাল ও গুদামে লক্ষ লক্ষ মেট্রিক টন নতুন ধান, চাল থাকার পরও সরকারীভাবে এবং সরকারের আর্শিবাদপুষ্ট আমদানীকারকরা ভারত থেকে শুল্কমূক্ত সুবিধায় চাল আমদালী করে একদিকে নিজেরা মুনাফা করে অপর দিকে ধান চাষীদের পথে বসিয়ে দেয় অথচ সাধারণ মানুষ মোটা চাল ৪০-৪৪ টাকা কেজি দরে ক্রয় করতে বাধ্য হচ্ছে।

যেখানে কৃষকের খরচ হয়েছে ৬০০-৭০০ টাকা সেখানে প্রতিমন ধান ৬৪০-৬৬০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। যার ফলে গড়ে প্রতি বিঘায় কৃষকের নীট লোকসান ৬০০-৮০০ টাকা। সরকারীভাবে ভারত থেকে চাল আমদানীর ফলে কৃষকের মাথায় হাত পড়ছে, প্রতিকান্তরে  প্রকাশিত সংবাদে জানা যায় যে, প্রতিবছর সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে কয়েক লক্ষ টন চাল আমদানী করা হয়।

অথচ এ কথা অস্বীকার করা হয়।  দেশে দানা শস্য উৎপাদনের পরিমাণ ৩ কোটি ৬৬ লক্ষ মেট্রিক টনে উন্নিত হয়েছে বলে সরকারি সুত্রে স্বীকার করা হচ্ছে। দেশের আপতকালীন  মজুদ কমে এখন  ১০ লক্ষ   ৮১ হাজার মেট্রিক টনে দাড়িয়েছে। একদিকে উদ্বুত্ত উৎপাদন ও বিদেশে রপ্তানীর কথা বলা হচ্ছে অন্য দিকে প্রতিবছর শুল্কমূক্ত সুবিধায় ভারত থেকে চাল আমদানি করা হচ্ছে কার স্বার্থে?

দুদু বলেন, দেশে ভূট্টা চাষীরা প্রতি বছর ভূট্টার ন্যায্যমূল্য পায় না। যারা ন্যয্যমূল্য পাওয়ার আশায় ভুট্টা সংরক্ষণ করে তারা সে ভূট্টা বিক্রি করতে পারে না, কারণ ভারত থেকে নি¤œ মানের ভূট্টা আমদানী করে সরকার দলীয় লোকেরা। একই অসস্থা শাক-সবজিসহ অন্যান্য রবি শস্যোর ক্ষেত্রেও ঘটেই চলেছে। সারা দেশে আলু চাষীরা চরম আতংকে আছে। তারা ধান -পাট-ভূট্টা- সবজিতে দাম না পেয়ে আলু চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।

সংবাদ সম্মেলনে বেগম খালেদা জিয়ার শাসন আমলে দেশের পোল্ট্রি, ডেইরী ও মৎস্য খাত সহ বিভিন্ন খাতের যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণের0 পরিসংখ্যান তুলে ধরেন শামসুজ্জামান দুদু।

সেইসাথে উল্লেখিত বিবরণের প্রেক্ষিত কৃষক দলের ৪র্থ জাতীয় সম্মেলনে প্রাককালে কৃষকের পক্ষে কিছু দাবিনামা তুলে ধরেন তিনি।

দাবিগুলো হচ্ছে- ১। প্রতিটি মৌসুমে বাম্পার ফলনের পরও শুধু কৃষককে সর্বশান্ত কারার জন্য ভারত থেকে শুল্কমুক্ত চাল আমদানী বন্ধ করতে হবে।

২। সরকারীভাবে সরাসরি প্রকৃত কৃষকের নিকট হতে ন্যায্যমূল্যে ধান – চাল ক্রয় করতে হবে। ৩। ভারতে থেকে ভূট্টা আমদানী বন্ধ করতে হবে।

৪। শস্য পরিবহনের সময় পথে পথে দলীয় চাঁদাবাজী ও পুলিশী হয়রানি বন্ধ করতে হবে। ৫। হাটে ইজারাদারদের দৌরাত্ম বন্ধ ও কৃষকের প্রতি সহিংসতা বন্ধ করতে হবে ।

৬। কৃষি ঋণ প্রকৃত কৃষকের মাঝে সরাসরি প্রদান করতে হবে। ব্যাংক ঋণ এর ক্ষেত্রে ঘুষ ও দালালী বন্ধ করতে হবে। ৭। বীজ, সার, কীটনাশকসহ সকল কৃষি উপকরণের মূল্য কমাতে হবে।

৮। কৃষিতে ভর্তুকী বাড়াতে হবে। ৯। ডিজেলের মূল্য কমাতে হবে। ১০। বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করা যাবে না। ১১।  ভারতীয় সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক গুলি করে নিরীহ কৃষক হত্যা বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

১২। করোনা চলাকালীন সময়ে প্রকৃত কৃষকদের সাহায্য সহযোগীতা করতে হবে।

সর্বোপরি দেশের কৃষকের ওপর সকল নির্যাতন নিপীড়ণ, শোষণ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তা না হলে বাংলাদেশের নিপীড়িত- নির্যাতিত কৃষক সমাজকে সাথে নিয়ে দুর্বার কৃষক আন্দোলনের মাধ্যমে বর্তমানে অবৈধভাবে ক্ষমতাদখলকারী কৃষকের শক্র সরকারের পতন ঘটিয়ে দেশপ্রেমিক কৃষক বান্ধব সরকার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে কৃষকের ন্যায্য দাবি আদায় করবে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল।

ফেসবুক পেজ লাইক করুন: https://www.facebook.com/Polnewsbd/

আমাদের টুইটার প্রোফাইল ফলো করুন: https://twitter.com/BdPolitical

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × 5 =

Back to top button
Translate »