মতামত

সময় খুব কম আসুন নিজেকে শুধরিয়ে নিই

২৪ এপ্রিল ২০২১।। ২৩.৫১

হারুন অর রশিদ

সময়টা খুব দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। কত চেনা, আধা চেনা,আত্মীয়, অনাত্মীয়, বিখ্যাত থেকে শুরু করে খুব সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত মারা যাচ্ছে তার ইয়ত্তা নাই।

করোনা নামক অদৃশ্য ভাইরাসের ছোবলে এত মানুষের প্রাণহানি হচ্ছে। সারা দুনিয়া চেষ্টা করছে এই ভয়ংকর ভাইরাসের আক্রমণ থেকে মানুষকে রক্ষা করতে কিন্তু কোন কিছুতেই কোন কিছু হচ্ছে না। আক্রান্তের সংখ্যা যেমন বাড়ছে তেমনি মৃত্যুর সংখ্যাটাও জ্যামিতিকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মৃত্যু একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

জন্ম নিলে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবেই। কিন্তু ইতিহাসের বিভিন্ন পরিক্রমায় দেখা যায় যখন মানুষের মধ্যে পাপাচার এত পরিমাণ বেড়ে গেছে বা আল্লাহর দেওয়া বিধান না মেনে তার উল্টোটা করেছে কিংবা নবী রসুলগণকে পর্যন্ত হত্যা করেছে তখন আল্লাহ ঐ জাতিকে ধ্বংস করার জন্য নানা রকম পন্থা অবলম্বন করেছেন।

বর্তমান সময়ে মানুষের মধ্যকার আচরণ গত দিকগুলি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় এহেন পাপচার নাই যাতে মানুষ নিমজ্জিত নেই। হত্যা, গুম, সুদ, ঘুষ, ব্যাভিচার, অন্যায়, অবিচার, জুলুম -নির্যাতন, সমকামীতা, নারীর উপর নির্যাতন, দূর্বলের উপর সবলের ভয়ংকর আক্রমণ এগুলি আজ নিত্য ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইত্যাদি নানাবিধ কারণে আল্লাহ হয়ত বেজার হয়ে করোনার মত এক অদৃশ্য অতিক্ষুদ্র ভাইরাস নামক জীবানু পাঠিয়ে মানুষের জীবন নিয়ে নিচ্ছেন। এর মাধ্যমে হয়ত আল্লাহ মানুষ কত দূর্বল তাও প্রমাণ করিয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু আমরা বুঝতে পারছি না।

মৃত্যু যেভাবেই হউক এটি তো সত্য কবরে গিয়ে আমাদেরকে তিনটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।

১. মান রাব্বুকা, ২. মান দিনুয়ুকা, ৩. মান নবীয়ুকা।

এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলে তার জন্য কেয়ামত পর্যন্ত কবরের আজাব মাফ হয়ে যাবে এবং সে কতটা শান্তিতে থাকবে তা কুরআনুল কারীমে বিশদভাবে বর্ণনা করা আছে। আর তিনটি প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারলে কবরটা কতটা জাহান্নামময় হবে তারও বর্ণনা আছে।
যে দুনিয়ার জন্য আমরা এতটা ব্যস্ত তার কোন কিছুই আমাদের কোন কাজে আসবে না।

কেবলমাত্র কোরআান এবং সুন্নাহর আলোকে চালিত জীবনের অর্জিত সম্পদ কবরে এবং শেষ বিচারে আপনার আমার বন্ধু হয়ে পাশে দাঁড়াবে।
প্রিয় দোস্ত / বন্ধুরা, আজ দুনিয়াতে হক এবং বাতিলের তুমুল যুদ্ধ চলছে। মুনাফেকি আর ঈমান বিক্রির প্রতিযোগীতা চলছে। সত্য -অসত্যের যুদ্ধটা তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে।

আল্লাহর ওয়াদা অনুযায়ী বাতিল ধ্বংস হয়ে হক টিকে যাবে এবং মিথ্যা ধ্বংস হয়ে সত্য প্রতিষ্ঠিত হবে। তারপর কেয়ামত নাজিল হবে।
মাঝখানের সময়টুকুতে কে আল্লাহকে ভয় করে সত্যের পথে ছিল আর কে আল্লাহকে ভয় না করে বাতিলের পথ গ্রহণ করবে তা চিহ্নিত হয়ে যাবে।

তাই বলবো ঈমানের পথে ফিরে আসার জন্য এই মহামারী করোনার চেয়ে উৎকৃষ্ট উদাহরণ আর কী হতে পারে!
এত ক্ষুদ্র জীবাণুকে যারা মোকাবিলা করতে অক্ষম তাদের এত বাহাদুরি কিসের? তাই সব বাহাদুরি বাদ দিয়ে তওবা করে আল্লাহর কাছে নত স্বীকার করুন। আল্লাহ ক্ষমা করলেও করতে পারেন। তিনি তো পরম ক্ষমাশীল।

সম্পাদক ও কলামিস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

10 − 5 =

Back to top button
Translate »