কৃষক দললীড

কমিটির অনিশ্চয়তায় সাংগঠনিক স্থবিরতায় কৃষক দল

সম্মেলনের দুই মাস পার

২০ মে, ২০২১ ।। ০০.৫৪

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সম্মেলনের দুই মাসের বেশি সময় পার হলেও কমিটি গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। কবে নাগাদ কমিটি ঘোষিত হবে- দায়িত্বশীল কোনো নেতাই তা বলতে পারছেন না। এর ফলে পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে এক ধরনের হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে সম্মেলনে কমিটি বিলুপ্ত করায় বর্তমানে কেন্দ্রীয় কমিটি ছাড়াই চলছে কৃষক দল। ফলে দেখা দিয়েছে সাংগঠনিক স্থবিরতা। দীর্ঘ ২২ বছর পর গত ১২ মার্চ রাজধানীর গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের চতুর্থ জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিল অধিবেশনে কাউন্সিলররা কৃষক দলের কমিটি গঠনের সর্বময় ক্ষমতা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ওপর ন্যস্ত করেন।

জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অসুস্থ থাকায় দলের হাইকমান্ডের পুরোপুরি মনোযোগ এখন তার সুস্থতার দিকে। এছাড়া করোনা মহামারির কারণে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমও স্থগিত রয়েছে। তাছাড়া সম্মেলনে বিশৃঙ্খলাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় কৃষক দলের নেতৃত্ব বাছাই নিয়েও বিপাকে পড়ে বিএনপি। কেননা, বিশৃঙ্খলার ওই ঘটনাকে ঘিরে দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে কৃষক দল। উত্তেজনা প্রশমন তথা সংকট নিরসনে তাই ‘ধীরে চলো নীতি’ গ্রহণ করে হাইকমান্ড। এদিকে কাঙ্ক্ষিত যোগ্য নেতৃত্ব না পাওয়াও কৃষক দলের কমিটি গঠন বিলম্বিত হওয়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন অনেকে। সব মিলিয়ে কৃষক দলের কমিটি গঠন নিয়ে দেখা দিয়েছে এক ধরনের অনিশ্চয়তা।

তবে পদপ্রত্যাশীদের আশা, সব অনিশ্চয়তা কেটে গিয়ে শিগগিরই কৃষক দলের কমিটি ঘোষিত হবে।

কৃষক দলের চতুর্থ জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বক্তব্যের পর সংগঠনের বিধান অনুযায়ী নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের আগে কৃষক দলের ১৫৩ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সংগঠনটির সারাদেশের নেতা-কর্মী ও কাউন্সিলরদের আশা ছিল বিকেলে কাউন্সিল অধিবেশনের পর কৃষক দলের নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হবে। কিন্তু কাউন্সিল অধিবেশনে বিএনপির চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে বাদ দিয়ে শুধু কৃষক দলের (উত্তরবঙ্গের) এক শীর্ষ নেতার নামে স্লোগান দেয়া এবং অধিবেশনের বাইরে ওই নেতার পক্ষে বহিরাগতদের শোডাউনকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়, যা এক পর্যায়ে মারামারিতে রূপ নেয়।

কৃষক দলের একাধিক নেতা অভিযোগ করেন, সম্মেলনে সংগঠনটির শীর্ষ নেতাদের সিদ্ধান্ত ছিল- অনুষ্ঠানে শুধু বিএনপি চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নামে স্লোগান হবে। কিন্তু কৃষক দলের এক শীর্ষ নেতা এই সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করেছেন। তার নামে স্লোগান হওয়ায় বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। বিএনপি মহাসচিবের হস্তক্ষেপে পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে ওই ঘটনাকে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কমিটি ঘোষণা পিছিয়ে যায়।

১৯৯৮ সালের ১৬ মে এর আগে কৃষক দলের শেষ সম্মেলন হয়েছিল। তখন মাহবুব আলম তারাকে সভাপতি ও শামসুজ্জামান দুদুকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয়। এরপর ২০০১ সালে মাহবুব আলম তারা কৃষক দল ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিলে মজিবুর রহমান মোল্লা ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হন। ২০০৭ সালে তার মৃত্যুর পর সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে আসেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ কাউন্সিলের পর মির্জা ফখরুল বিএনপির মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ায় কৃষক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি থেকে পদত্যাগ করেন।

এরপর নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনকে সামনে রেখে গত বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি শামসুজ্জামান দুদু ও হাসান জাফির তুহিনের নেতৃত্বে কৃষক দলের ১৫৩ সদস্যের আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়।

জানা যায়, বিএনপি চেয়ারপরসন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগে দলের ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহানকে কৃষক দলের দায়িত্ব নেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেছিলেন। তবে মো. শাহজাহান এখন আর কৃষক দলে রাজি নন। আর সম্মেলনের পর হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে আরেক ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও কৃষক দলের দায়িত্ব নিতে আগ্রহ দেখাননি। তবে কৃষক দলের নতুন কমিটিতে এই দুইজনের নাম এখনো আলোচনায় রয়েছে।

সূত্র জানায়, কৃষক দলের কমিটি নিয়ে নতুন নতুন চিন্তা-ভাবনা চলছে। সংগঠনের বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান দুদু ও সদস্য সচিব হাসান জাফির তুহিনকে রেখে কিংবা উভয়কেই বাদ দিয়ে কমিটি করার কথা ভাবা হচ্ছে। তবে কৃষক দলের কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের সিংহভাগ নেতা-কর্মী শামসুজ্জামান দুদুকেই সংগঠনের সভাপতি হিসেবে দেখতে চান বলে জানা গেছে।

এছাড়া শীর্ষ পদে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিম, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, কেন্দ্রীয় সদস্য নাজিম উদ্দিন আলমের কথাও ভাবা হচ্ছে।

এর বাইরে কৃষক দলের বিলুপ্ত কমিটির নেতা তকদির হোসেন মো. জসিম, সৈয়দ মেহেদি আহমেদ রুমি, শাহজাহান মিয়া সম্রাট, কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশের নামও আলোচনায় রয়েছে।

কৃষক দলের নতুন কমিটি গঠন প্রসঙ্গে হাসান জাফির তুহিন বলেন, বিএনপিসহ গোটা বাংলাদেশের মানুষ এই মুহূর্তে গণতন্ত্রের মাতা বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে ভাবছেন। করোনা মহামারির কারণে আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। তাছাড়া গঠনতন্ত্র মোতাবেক এবং আমাদের কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে দেয়া হয়েছে। তিনি যখনই উপযুক্ত মনে করবেন তখনই আমাদের কমিটি উপহার দেবেন, আমরা অপেক্ষায় আছি।

জানতে চাইলে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, সবে ঈদ গেল। আশা করি, দুই-এক সপ্তাহের মধ্যে কৃষক দলের নতুন কমিটি আসতে পারে।

কৃষক দলের নতুন কমিটি কবে নাগাদ গঠিত হতে পারে জানতে চাইলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, এ বিষয়ে তার কিছু জানা নেই। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন।

ফেসবুক পেজ লাইক করুন: https://www.facebook.com/Polnewsbd/

আমাদের টুইটার প্রোফাইল ফলো করুন: https://twitter.com/BdPolitical

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

14 − eleven =

Back to top button
Translate »