মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৬, ২০২১

“শুভ্রতার বিচ্ছুরণ”

আজ আমার কাছে পৃথিবীটা আলোকময় হইয়া উঠিল। মহাসেনের তান্ডব লীলাকে অতিক্রম করিয়া ভারী বৃষ্টি বর্ষণরত আকাশের কোনো একটু ফাঁক গলাইয়া মহান সৃষ্টিকর্তা যে শুভ্রতার বিচ্ছুরণ ঘটাইলেন তাহা আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার।

দিনটি ছিল ২০১৩ সালের ২১ মে। সকাল হইতেই আকাশ গোমড়া করিয়া রহিয়াছে। কখন যে আকাশ ভাঙ্গিয়া ভারী বৃষ্টি বর্ষণ করিবে তাহারই অপেক্ষায় ছিলাম।

হঠাৎ আমার ‘স্ত্রী’ র প্রসব বেদনা উঠিল। ঐদিকে আকাশও প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু করিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঢাকা শহরের সর্বত্র পানির নীচে তলাইয়া গেল।

স্ত্রী’র প্রসব বেদনাও বৃষ্টির সাথে রাগ করিয়া সমানতালে বাড়িতে লাগিল। কি করিব বুঝিয়া উঠিতে পারিলাম না।

উপায়ান্তর না পাইয়া বৃষ্টির মধ্যেই বাহিরে বাইর হইয়া গাড়ী ঠিক করিয়া আনিলাম। গাড়ীর চাকাগুলি পানির তলায় ডুবিয়া গেল।

আরো পড়ুন: “বিচার চাইবো কার কাছে”

ড্রাইভার অস্বীকৃতি জানাইলেও হাতজোড় করিয়া টাকার অংক বাড়াইয়া দিয়া হাসপাতালে নিতে সক্ষম হইলাম।

বাহিরে প্রবলবেগে ঝড় বৃষ্টি হইতেছে অন্যদিকে এক নতুন সংবাদের অপেক্ষা করিতেছি। অবশেষে বিকাল ২টা নাগাদ ডাক্তার আসিয়া কহিলেন আজই সিজার করিতে হইবে।

সম্মতি দিয়া দিলাম। মনের মধ্যে উত্তেজনাময় আনন্দের ঢেউ আসিয়া হাজির হইল পাছে ভয়ও কাজ করিতেছিল না জানি কী হয়। আনন্দ এবং ভয়ের সংমিশ্রণে এক অদ্ভুত অনুভূতির ঢেউ মনের মধ্যে খেলা করিতে লাগিল।

সব শঙ্কা এবং ভয়কে দূর করিয়া বিকাল তিনটার সময় ডাক্তার আসিয়া খুশির সংবাদ শুনাইয়া বলিলেন, কন্যা সন্তান হইয়াছে। খুশিতে আন্দোলিত হইয়া মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করিলাম।

হঠাৎ আকাশের বৃষ্টি থামিয়া গেল। এক জ্যোতির্ময় শুভ্রতা পৃথিবীকে আলোকিত করিল। কন্যা সন্তান আল্লাহর এক বিশেষ নিয়ামত এই খুশিতে চারদিকে সংবাদ ছড়াইয়া দিয়া সকলের কাছ হইতে দোয়া মাগতে লাগিলাম। সংবাদ শুনিয়া সবাই খুশি হইলেন এবং দোয়াও করিলেন।

পরদিন সকাল হইতেই আবারও আকাশ ভাঙ্গিয়া বৃষ্টি হইতে আরম্ভ করিল। মহাসেনের তান্ডব উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করিতে লাগিল।

ঢাকা শহর পানির নীচে অবরুদ্ধ হইল। সবকিছুই আমার কাছে ম্লান মনে হইল সদ্য ভূমিষ্ট হওয়া এক নতুন আলোর বিচ্ছুরণে।

এই আলোর নাম দিলাম নন্দিনী।

সেই তখন হইতে আরম্ভ করিয়া একে একে আট বছর অতিক্রম করিয়া নয়’ এ আসিয়া পড়িয়াছে।

আজ তাহার জন্মদিন। করোনা মহামারীতে সারা পৃথিবী যখন বিপর্যস্ত তখন আমার রাজকন্যা তাহার জন্মদিনের ক্ষণগণনা আরম্ভ করিয়া দিয়াছে অনেক আগে হইতেই। আজ তাহার ক্ষণগণনার দিন শেষ হইয়াছে।

কি আর করা! কেক কাটিয়াই তাহার মনকে প্রশান্ত করিতে হইবে। হয়ত করিব! কিন্তু যে আনন্দের ডামাডোল পিটাইয়া পৃথিবীতে আসিয়াছিল তাহা আজ নিরুত্তাপ, নিরুৎসাহিত। করোনার ভয়ংকর ছবল আবাল, বৃদ্ধ, বণিতাকে ঘরে বন্দী করিয়া ফেলাইয়াছে।

মনের মধ্যে যে আনন্দ লইয়া পৃথিবীময় জানিয়া প্রকৃতির মুক্ত আলো-বাতাসের মধ্যে বড় হইয়া উঠিবে তাহা আজ পরিপূর্ণ রুদ্ধ হইয়া গিয়াছে।

শিশুর মন কত কিছু জানিতে চায়, বলিতে চায়, শিখিতে চায়। প্রকৃতি নিজেই শিক্ষক হইয়া অনেক কিছু শিশুদেরকে শিখাইয়া বড় করিয়া তোলে।

প্রতিটি শিশু আজ সেই শিক্ষা হইতে বঞ্চিত হইয়া ঘরের মধ্যে বন্দী হইয়া একঘেয়েমি জীবনে অভ্যস্ত হইয়া পড়িতেছে। টেলিভিশন -মোবাইলে আসক্ত হইয়া উঠিতেছে।

ইহার প্রভাব কতটা বিস্তার করিবে তাহা অনুমানেরও বাহিরে। যাহাই হউক, আজ নন্দিনীর অষ্টম বছর পূর্ণ হইল। কেমন করিয়া, কত সহজেই আটটি বছর পার হইয়া গেল তাহা টেরও পাইলাম না।

হয়ত এমন করিয়াই একদিন আরোও বড় হইয়া জীবনের পথ বাছিয়া লইবে। তাহার জীবনেও নতুন দিগন্ত সূচিত হইবে।

জীবন চলার পথে আলো-আঁধারির খেলার মধ্য দিয়াই নিজেকে যোগ্য করিয়া তুলিবে। দেশ, সমাজের কাজে নিজেকে নিয়োজিত করিবে।

এমনি করিয়াই যুগ যুগান্তরে প্রতিটি শিশু বড় হইয়া জীবনের নতুন দর্শন, পথ, মত খুঁজিয়া লইবে।তবে মানুষ হইবে এটাই হইল আসল আরাধনা।

শুভ জন্মদিনের শুভেচ্ছা ও শুভকামনা এবং মহান আল্লাহর দরবারে একজন প্রকৃত মানুষ হইতে পারে এই প্রার্থনা করিয়া সকলের কাছ হইতে দোয়া মাগ করিতেছি। সকলের ঘর শুভ্র আলোর বিচ্ছুরণে জাগিয়া উঠুক মহা আনন্দে। শুভ জন্মদিন।

মো: হারুন-অর-রশিদ

ফেসবুক পেজ লাইক করুন: https://www.facebook.com/Polnewsbd/

আমাদের টুইটার প্রোফাইল ফলো করুন: https://twitter.com/BdPolitical

Related Articles

আমাদের সোসাল মিডিয়া

সর্বশেষ সংবাদ

Translate »