যুব দল

তারেকের সমালোচনা : ডা. জাফরুল্লাহ’র বক্তব্য প্রত্যাহার চায় যুবদল

২৯ জুন, ২০২১ ।। ২১.৪৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে সম্প্রতি জাতীয় প্রেসক্লাবে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী যুবদল। একইসঙ্গে জাফরুল্লাহ চৌধুরীর ওই বক্তব্যকে ভ্রান্তিকর, অপ্রাসঙ্গিক ও উদ্দেশ্যমূলক অভিহিত করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিএনপি ও তারেক রহমান সম্পর্কে কথা বলার সময় তাকে সতর্ক ও যত্নবান হওয়ার অনুরোধও জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ জুন) এক যৌথ বিবৃতিতে যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এসব কথা বলেন।

প্রসঙ্গত, জাতীয় প্রেস ক্লাবে গত শনিবার (২৬ জুন) ‘এডুকেশন রিফর্ম ইনিশিয়েটিভ’র উদ্যোগে শিক্ষাবিষয়ক এক গোলটেবিল আলোচনায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে বলতে গিয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ওমর ফারুক কাউসারের বাধার মুখে পড়েন ডা. জাফরুল্লাহ।

বক্তব্যের একপর্যায়ে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘‘এদেশে অনেকে, যেমন এখানে আমাদের সেলিম ভুঁইয়া (শিক্ষক নেতা) বলেছেন, এই জায়গায় বিএনপি আসলে বোধহয় সব সমস্যার সমাধান হবে? হবে না। কারণ বিএনপির তো আসারই ইচ্ছা নাই। বিএনপিকে ক্ষমতায় আসতে হবে-এই জাতীয় একটা ইচ্ছা থাকতে হবে ও আগ্রহ থাকতে হবে। আজকে বিএনপি পরিচালিত হচ্ছে আল্লাহর ওহি দিয়া। সেই ওহি লন্ডন থেকে ভেসে আসে ইনারা একেকজন।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘আজকে আমি মনে করি, এই গণতান্ত্রিক স্বৈরাচারকে পতন ঘটাতে হলে যেটা শওকত মাহমুদ বলেছেন, ‘সবাইকে একত্রিত হতে হবে।’ সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন হতে হবে বিএনপির ঘরে, নিজের ঘরে।

খালেদা জিয়ার মধ্যে ডিপ্রেশন ‘দেখা দিয়েছে’ মন্তব্য করে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, “আপনারা কেউ খালেদা জিয়ার চেহারা লক্ষ্য করে দেখেছেন। আপনারা যদি তার চোখ দুইটার দিকে দেখেন-ডিপ্রেশনের ভাব, এই ডিপ্রেশন হল আলঝাইমারের পূর্ব লক্ষণ। তারা (সরকার) যেভাবে উনাকে জীবিত থেকেও মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে, এটা বিএনপির লোকেরা হয়ত উপলব্ধিই করে না।”

এ সময় তিনি আরও বলেন, “তারা (বিএনপি) যদি উনার মুক্তি চায়, আমি বারে বারে বলেছি, তারেক (তারেক রহমান) দুই বছর চুপচাপ বসে থাকো। পারো তো বিলাতে লেখাপড়াতে যুক্ত হয়ে যাও। সেখানে বহুভাবে লেখাপড়া করা যায়।”

এই সময়ে দর্শক সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ওমর ফারুক কাউসার প্রতিবাদ জানিয়ে সালাম দিয়ে বলেন, ‘‘স্যার আপনি বিএনপির কে? আপনি সবসময় বিএনপিকে নিয়ে উল্টা-পাল্টা কথা বলেন।”

জবাবে জাফরুল্লাহ বলেন, ‘‘আমি বিএনপির কিছু না। ওই যে গণতন্ত্রে আমার কথা বলার অধিকার আছে। আমার কথাটা শুইনা তারপরে বলেন। আপনাদের ভালোর জন্য কইতাছি। আপনাদের ভালোই বুঝেন না আপনারা।”

এই পর্যায়ে কাউসার আবার বলেন, ‘‘না, আমরা আমাদের ভালো অবশ্যই বুঝি। আপনি উল্টা বুঝেন। আপনি আমাদের নেতাকে নিয়ে কথা বলবেন না, কখনই বলবেন না। আপনি সব সময় আমাদের নেতা নিয়ে কথা বলেন। যদি বলেন, পরবর্তীতে কিছু হলে কিন্তু আমরা দায়ী না। ধন্যবাদ। আপনি জয়কে (সজীব ওয়াজেদ জয়) নিয়ে বলেন, তাকে নিয়ে তো কিছু বলেন না, সিনিয়রদের নিয়ে বলেন।” এই বলে ছাত্রদল কর্মীরা আলোচনা স্থল থেকে বেরিয়ে যান।

ডা. জাফরুল্লাহ তখন বলেন, ‘‘আপনারা দায়ী হবেন কেন? মানুষ যখন ধর্মান্ধ হয়ে যায় তখন যে সমস্যা হয় এই ঘটনা তার প্রমাণ।

বিবৃতিতে যুবদল নেতৃদ্বয় বলেন, তারেক রহমান উড়ে এসে জুড়ে বসেন নাই। রাজনীতি তার শেকড়ে প্রোথিত। শুরু থেকেই দলের তৃণমূলকে নিয়ে তিনি অনেক কাজ করেছেন। এখনও নিরবচ্ছিন্নভাবে তিনি দলকে সময় দিচ্ছেন। দল ও দলের তৃণমূলের সাথে তার সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। দলই তাকে নেতৃত্বের এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। নেতৃত্ব আকাশ থেকে পড়ে নাই। তাছাড়া গৌরবময় এক রাজনৈতিক পরিবারে তার জন্ম। তার পিতা শুধু স্বাধীনতার ঘোষকই নন, রণাঙ্গনে যুদ্ধ করে বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামে তার মায়ের ভূমিকাও অনন্য ও অসাধারণ। বাবা-মা একই সাথে একটি দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনে যে অসামান্য অবদান রেখেছেন-দুনিয়ার ইতিহাসে তা বিরল।

তারা আরও বলেন, এতদসত্ত্বেও তারেক রহমান রাজনীতি শুরু করেছেন তৃণমূল থেকে। তিনযুগ আগে বগুড়ার গাবতলী থানার সদস্যপদ দিয়ে তার শুরু। তারপর অনেক ঘাত প্রতিঘাত ও সময়ের সিঁড়ি বেয়ে- তিনি এখন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। একজন প্রাজ্ঞ ও পরিশীলিত রাজনীতিবিদ। তার নেতৃত্বে বিএনপি এখন কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ এবং তুমুল জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল। দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় তিনি অনেক নিষ্ঠুর অভিজ্ঞতারও মুখোমুখী হয়েছেন। এর মধ্যে তার প্রাণনাশের পরিস্থিতিও ছিলো- এখনও তাকে নির্বাসিত জীবনযাপন করতে বাধ্য করা হচ্ছে।

নিরব-টুকু বলেন, প্রমানিত সত্য যে- তারেক রহমান মানেই শাসকগোষ্ঠীর আতঙ্ক ও গাত্রদাহের কারণ। মূলত ১/১১ থেকে বিরাজনীতিকরণের যে অশুভ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে- জিয়া পরিবার ও তারেক রহমান তার প্রধান টার্গেট। সেই ষড়যন্ত্র ও প্রক্রিয়া এখনও অব্যাহত আছে। বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে তারেক রহমানকে মাইনাস করা গেলেই- তাদের ষোলোকলা পূর্ণ। সেজন্য টার্গেট করে, পরিকল্পনা করে তারেক-গীবত ও তার চরিত্রহনন তাদের প্রধান কাজ। তার তুমুল জনপ্রিয়তা তাদের এই ভীতির প্রধান কারণ।

তারা বলেন, দুর্ভাগ্যজনক হলো- বুঝে বা না বুঝে শাসকগোষ্ঠীর সেই ফাঁদে জড়িয়েছেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। প্রায়শই তিনি তারেক রহমানকে অসম্মান করে, তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথা বলেন। অথচ এটা তার কোনো এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না। তার এই ধরনের বক্তব্যে দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মী ও দেশের মানুষ আজ আহত, বিরক্ত ও বিক্ষুব্ধ।

যুবদল নেতৃদ্বয় বলেন, দলের লাখো কোটি নেতাকর্মীর কাছে এখন আস্থা, ভালোবাসা, নির্ভরতার অপর নাম তারেক রহমান। তিনি তা অর্জন করেছেন অপরিসীম ত্যাগ, শ্রম ও নিষ্ঠার মাধ্যমে। তিনি দেশের সবচাইতে নির্যাতিত রাজনৈতিক নেতাও বটে।

তারা বলেন, জাতীয়তাবাদী যুবদল মনে করে- ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর এই বক্তব্য ভ্রান্তিকর, অপ্রাসঙ্গিক ও উদ্দেশ্যমূলক।

যুবদল নেতৃদ্বয় বলেন, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী একজন সম্মানিত মানুষ, এদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে তার অবদান আছে। সেজন্য যুবদল আশা করে- বাস্তবতা উপলব্দি করে দ্রুতই তিনি তার বক্তব্য প্রত্যাহার করবেন এবং ভবিষ্যতে বিএনপি ও তারেক রহমান সম্পর্কে কথা বলার সময় সতর্ক ও যত্নবান হবেন।

ফেসবুক পেজ লাইক করুন: https://www.facebook.com/Polnewsbd/

আমাদের টুইটার প্রোফাইল ফলো করুন: https://twitter.com/BdPolitical

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

11 − 3 =

Back to top button
Translate »