জাতীয় পার্টি

মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের চেয়ে মানুষের জীবন বাঁচানো জরুরি: জাপা

১৫ জুলাই ২০২১।। ১৮.০৪

নিজস্ব প্রতিবেদক

মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের চেয়ে এখন মানুষের জীবন বাঁচানো জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের।

তিনি বলেন, ৬ লাখ কোটি টাকার বিশাল বাজেট আমাদের। বড় বড় মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে দেশে। কিন্ত করোনায় কর্মহীন পরিবারগুলো মারাত্মক অর্থ সংকটে পড়েছে।

জিএম কাদের বলেন, এক বছর আগেই আমরা বলেছিলাম লকডাউন দেয়ার আগে মানুষের খাবার, অষুধ এবং জরুরি নিত্যপণ্য নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়া কখনোই লকডাউন সফল হবে না। লকডাউন সফল হয়নি, করোনার সংক্রমণ বেড়েছে, বেড়েছে মৃত্যুর হারও।

বাজেট তৈরি হয় দেশের জনগনের ট্যাক্সের টাকায়। এ টাকার মালিক দেশের জনগণ। তাই সেখান থেকে প্রতি মাসে দরিদ্র পরিবার প্রতি অন্তত ১০ হাজার টাকা দিলে দেশের মানুষ বাঁচতে পারবে। লকডাউনও সফল হবে। মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের চেয়ে মানুষের জীবন বাঁচানো জরুরি।

বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) মোহাম্মদপুর জাকির হোসেন রোড মাঠে পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ-এর দ্বিতীয় মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে দুঃস্থদের মাঝে খাদ্যপণ্য বিতরণ উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তর-এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ শফিকুল ইসলাম সেন্টুর অর্থায়নে এবং ঢাকা মহানগর উত্তর জাতীয় পার্টির ব্যবস্থাপনায় কয়েক হাজার মানুষকে মাস ব্যাপী খাদ্যপণ্য বিতরণ করা হবে।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, করোনা মোকাবেলায় যখন ২৬ থেকে ২৮ কোটি ডোজ টিকা প্রয়োজন, সেখানে শুধু ঘোষণা আসছে ৫ থেকে ১০ লাখ টিকা আসছে।

সারা বিশ্ব যখন করোনার টিকা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছে তখনো আমরা জানিনা কখন দেশের সবাই টিকা পাবেন।

দেশের প্রতিটি মানুষকে টিকা দিতে হবে। যেভাবে টিকা দেয়ার কথা সরকারিভাবে বলা হচ্ছে, তাতে ৫ থেকে ৬ বছর লেগে যেতে পারে।

আবার ১০ বছরও লেগে যেতে পারে। তাতে পরিস্থিতি মারাত্মক হয়ে যাবে। সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে আর মাস্ক ব্যবহার করেই করোনা মোকাবেলা সম্ভব হবেনা।

প্রতিদিন সরকারের পক্ষ থেকে করোনা টিকার ব্যাপারে আশ্বাস দেয়া হচ্ছে, কিন্তু সরকারি আশ্বাসে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে সাধারণ মানুষ।

গোলাম মোহাম্মদ কাদের আরো বলেন, এক বছরের বেশি সময় আগে সরকারকে আমরা স্বাস্থ্যসেবা আরো উন্নত করতে বলেছি।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রতিটি হাসপাতালেই ডাক্তার নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিতে বলেছিলাম।

প্রতিটি হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরিক্ষার যন্ত্রপাতি এবং অক্সিজেন সহায়তা নিশ্চিত করতে বলেছিলাম। এখন হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেনের জন্য হাহাকার উঠছে। সরকারের ব্যর্থতায় করোনা এখন গ্রাম-গঞ্জে ছড়িয়ে পড়েছে।

চিকিৎসার অভাবে গ্রামের মানুষ করোনায় মারা যাচ্ছে, যার হিসেব নেই সরকারের কাছে। মানুষ চিকিৎসা না পেয়ে পানি পড়া খেয়ে করোনা থেকে বাঁচতে চেষ্টা করছে, এর চেয়ে দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা আর হতে পারে না।

তিনি বলেন, আমরা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালেও আইসিইউ তৈরী করতে পরামর্শ দিয়েছিলাম সরকারকে। কিছুই করা হয়নি।

সরকারি হাসপাতালে যে আইসিইউ আছে তার মধ্যে অনেকগুলোই অকেজো থাকে। কিন্তু বেসরকারি পর্যায়ে রাজধানীতে বেশ কিছু আইসিইউ আছে যেগুলো অত্যান্ত ব্যয়বহুল।

সাধারণ মানুষের পক্ষে বেসরকারি হাসপাতালে করোনার চিকিৎসা নেয়া কখনোই সম্ভব নয়।

সভাপতির বক্তৃতায় জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জাতীয় পার্টি মহানগর উত্তর এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ শফিকুল ইসলাম সেন্টু বলেছেন, প্রতিটি দুর্যোগে সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছে জাতীয় পার্টি।

জাতীয় পার্টি আজীবন হতদরিদ্র মানুষের স্বার্থে রাজনীতি করে। তিনি বলেন, দেশের মানুষ উপলব্ধি করছেন আজ পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বেঁচে থাকলে সাধারণ মানুষের মাঝে এত হাহাকার থাকতো না।

তাই সাধারণ মানুষ আগামীতে জাতীয় পার্টিকে রাষ্ট্র ক্ষমতায় দেখতে চায়।

ফেসবুক পেজ লাইক করুন: https://www.facebook.com/Polnewsbd/

আমাদের টুইটার প্রোফাইল ফলো করুন: https://twitter.com/BdPolitical

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

14 − twelve =

Back to top button
Translate »