জাতীয় পার্টি

টিকা দিতে না পারলে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করুন: জিএম কাদের

১৬ জুলাই ২০২১।। ২০.৫৮

নিজস্ব প্রতিবেদক

করোনা মোকাবেলার প্রধান অস্ত্র টিকা মন্তব্য করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, সবাইকে যত দিন টিকা দেয়া না দেয়া যাবে, ততদিন সরকারি ভাবে সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনা কোন ছোট বিষয় নয়, সারা পৃথিবী ঐক্যবদ্ধভাবে করোনা মোকাবেলা করছে। বাংলাদেশেও সম্মিলিত ভাবে করোনা মোকাবেলা করতে হবে। সকল রাজনৈতিক দল, সকল এনজিও এবং পেশাজীবিদের নিয়ে করোনা মোকাবেলা করুন।

শুক্রবার (১৬ জুলাই) বিকেলে জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় কার্যালয় কাকরাইলে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় যুব সংহতি আয়োজিত স্মরণ সভা ও দুঃস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

জিএম কাদের বলেন, পৃথিবীর প্রায় সকল রাষ্ট্র দেশের মানুষকে টিকা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছে। কিন্তু আমাদের দেশের টিকা নিয়ে কেউ কিছু বলতে পারছেনা।

যেখানে ২৭ থেকে ২৮ কোটি ডোজ টিকা দরকার, সেখানে রেডিও টিভিতে সরকার ঘোষণা করছে ৫ লাখ ডোজ, ১০ লাখ ডোজ টিকা আসছে।

বাকি টিকা কখন, কোথা থেকে আসবে তা কেউ জানেনা। এটা অত্যান্ত হতাশাজনক।

তিনি বলেন, আবার লকডাউন দিলে কর্মহীন মানুষের পরিবার প্রতি মাসে অন্তত ১০ হাজার টাকা দিতে হবে। কারো ঘরে খাবার না থাকলে সে কখনোই লকডাউন মানবেনা।

যার ঘরে ক্ষুধার জ্বালায় শিশু কাঁদবে সে বাইরে বের হবেই। সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকায় দেশের বাজেট তৈরী হয়। ঐ টাকার মালিক দেশের সাধারণ মানুষ।

করোনাকালে দেশের মানুষ কষ্টে আছে, তাদের বাঁচাতে হবে। তাই অন্তত ২ কোটি পারবারকে মাসে ১০ হাজার টাকা দিতে সরকারের প্রতি আহবান জানান তিনি।

রাজনৈতিক বিবেচনা না করে প্রকৃত দরিদ্র পরিবারের মাঝে জরুরি ভিত্তিতে অর্থ সহায়তা দিতে হবে।

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রতিটি উপজেলায় হাসপাতাল তৈরী করেছেন। আমরা এক বছরের বেশি আগেই বলেছি, প্রতিটি হাসপাতালে মঞ্জুরীকৃত ডাক্তার, নার্স এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিতে হবে, দেয়া হয়নি।

প্রতিটি হাসপাতালে অক্সিজেনের ব্যবস্থা করতে বলেছি, কিন্তু সকল হাসপাতালে পর্যাপ্ত অক্সিজেন এর ব্যবস্থা করা হয়নি।

অক্সিজেনের অভাবে করোনা রোগী মারা যাচ্ছে। যাদের টাকা আছে তারা রাজধানীতে এসে বেসরকারি হাসপাতালে চিৎিসা নিচ্ছে।

আর যাদের টাকা নেই, তারা বিনা চিকিৎসায় গ্রামে-গঞ্জে মারা যাচ্ছে। দরিদ্র মানুষেরা করোনা টেষ্ট করতে পারছেনা, বিনাচিকিৎসায় মারা যাচ্ছে- সরাকারি হিসাবে তাদের সংখ্যা আসছেনা।

আইসিইউ থেকে বের করলেই মারা যাবেন মা, কিন্তু তা জেনেও টাকার অভাবে সন্তানরা করোনা আক্রান্ত মুমুর্ষ মাকে বেসরকারি হাসপাতাল থেকে বের করছেন। এমন হৃদয়বিদারক অসংখ্য ঘটনা ঘটছে প্রতিদিন।

তিনি বলেন, বাজেটে খুবই কম টাকা বরাদ্দ দেয়া হয় স্বাস্থ্য খাতে। আর বরাদ্দের বিশাল অংশই দুর্নীতিবাজরা লুটপাট করে খায়।

জাতীয় যুব সংহতি আহবায়ক এইচএম শাহরিয়ার আসিফের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আহাদ ইউ চৌধুরী শাহিনের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন- জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, প্রেসিডিয়াম সদস্য এড. মো. রেজাউল ইসলাম ভুইয়া,

চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মো. জহিরুল আলম রুবেল, হারুন আর রশীদ, ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় যুব সংহতির যুগ্ম-আহ্বায়ক তারেক এ আদেল,

সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হেলাল উদ্দিন, যুগ্ম-সাংগঠনিক সম্পাদক হেলাল উদ্দিন, জিয়াউর রহমান বিপুল, এড. মাঈন উদ্দিন মাইনু।

ফেসবুক পেজ লাইক করুন: https://www.facebook.com/Polnewsbd/

আমাদের টুইটার প্রোফাইল ফলো করুন: https://twitter.com/BdPolitical

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four × five =

Back to top button
Translate »