মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৬, ২০২১

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে বাংলাদেশের দ্বিতীয় জয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচও জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ।

টান টান উত্তেজনা আর শ্বাসরুদ্ধকর এই ম্যাচে ৪ রানের ব্যবধানে সফরকারীদের হারিয়েছে টাইগাররা।

শুরুতে ব্যাট করে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৪২ রানের লক্ষ্য দেয় বাংলাদেশ।

জবাব দিতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভার ব্যাট করে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৩৭ রান তুলতে সমর্থ হয় সফরকারীরা।

তবে শুক্রবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শেষদিকে বেশ রোমাঞ্চ ছড়িয়েছে দুদল।

শেষ ওভারে নিউজিল্যান্ডের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২০ রান। বোলিংয়ে ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান।

মিরপুরের মন্থর উইকেটে মুস্তাফিজ বেশ কার্যকর। তবুও আজ ছন্দ হারালেন কাটার মাস্টার।

করলেন নো বল, ওই বলও আবার হলো সীমানা ছাড়া! হঠাৎ দান উল্টে গেল, বেড়ে গেল কিউইদের জয়ের সম্ভাবনা।

শেষ ২ বলে সফরকারীদের দরকার পড়ে ৮ রান। তবে ‘ওস্তাদের মাইর শেষ রাইতে’র স্টাইলে ম্যাচের শেষ হাসিটা হেসে নিলেন মুস্তাফিজই।

শেষ দুই বলে কাটার মাস্টার দিলেন মাত্র ৪ রান। তাতেই ৪ রানের জয় নিশ্চিত হয় টাইগারদের। টানা জয়ের ছন্দটাও তাতে টিকে থাকল ঠিকঠাক।

নিউজল্যান্ডের বিপক্ষে এই সিরিজের আগে ১০ টি-টোয়েন্টিতে যেখানে কোনো জয় ছিল না বাংলাদেশের, সেখানে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৬০ রানে গুটিয়ে দিয়ে ৭ উইকেটে জয়ের পর আজ দ্বিতীয় ম্যাচেও ৪ রানের জয় তুলে নিয়েছে টাইগাররা।

এতে টানা দ্বিতীয় জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ দল। এবার অপেক্ষা সিরিজ জয়ের।

টস জিতে আগে ব্যাট করে স্কোর বোর্ডে ১৪১ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্যাট হাতে সুবিধা করতে পারেনি ব্ল্যাকক্যাপসারা।

অধিনায়ক টম লাথাম অবশ্য একপ্রান্ত আগলে রেখে জয়ের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন।

ব্যক্তিগত ফিফটি তুলে নিয়ে শেষ পর্যন্ত ৬৫ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তবে তার এ লড়াই কাজে আসেনি।

বাকিদের ব্যর্থতায় জয়ের খুব কাছে গিয়েও ফল পায়নি কিউইরা। বাংলাদেশের ১৪১ রানের জবাবে তারা তুলতে পারে ১৩৭ রান।

যদিও মাঝারি মানের এ টার্গেট টপকাতে নেমে ভালো শুরুর বার্তা দেন কিউইদের দুই ওপেনার রাবীন্দ্র রাচিন ও টম ব্লান্ডেল।

উদ্বোধনী জুটিতে ১৬ রান যোগ করে সাকিবের বলে আউট হন রাচিন। পরের ওভারে সফরকারী শিবিরে আঘাত হানেন শেখ মেহেদী হাসান। ফেরান ৬ রানে থাকা ব্লান্ডেলকে।

এরপর অধিনায়ক টম লাথাম ও উইল ইয়াংয়ের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে নিউজিল্যান্ড। তৃতীয় উইকেটে তাদের পার্টনারশিপ থেকে আসে ৪৩ রান।

ইয়াং ২০ রান করে সাকিবের বলে আউট হলে কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম আর হ্যানরি নিকোলসও সুবিধা করতে পারেননি।

সতীর্থদের আসা-যাওয়া ক্রিজে দাঁড়িয়ে দেখেন লাথাম। একপ্রান্ত আগলে রেখে অবশ্য ব্যক্তিগত অর্ধশতক তুলে নেন তিনি।

সাকিব-মেহেদীদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শেষ ২ ওভারে জয়ের জন্য কিউইদের প্রয়োজন পড়ে ২৮ রান।

পেসার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ১৯তম ওভারে দেন ৮ রান। শেষ ওভারে দরকার পড়ে ২০ রান, মুস্তাফিজ দেন ১৬ রান।

এর আগে ইনিংসের গোড়া পত্তন করতে নেমে কোল ম্যাককঞ্চির করা ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই খালি হাতে ফিরতে পারতেন লিটন।

স্কয়ার লেগে তার সহজ ক্যাচ ছাড়েন কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম। জীবন পেয়ে এজাজ প্যাটেলের পরের ওভারেই টানা দুইটি চার মারে লিটন।

চতুর্থ ওভারে হামিশ বেনেটকে দিয়ে পেস আক্রমণ আনেন কিউই অধিনায়ক টম লাথাম।

সময়ের সাথে সাবলীল ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতে ৩৬ রান তুলে ফেলে নাঈম-লিটন জুটি।

এ ম্যাচের আগে এই ফরম্যাটে বাংলাদেশ দল নিজেদের ওপেনিং পার্টনারশিপে পঞ্চাশ রান পার করতে পেরেছিল জিম্বাবুয়ে সফরের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে।

এরপর মাঝে চলে গেছে ৮ ম্যাচ। এমনকি পাওয়ার প্লের ৬ ওভারও শেষ করে আসতে পারেনি কোনও ওপেনিং জুটি।

কিউইদের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে লিটন আর নাঈম সে আক্ষেপে খানিক প্রলেপ দিয়ে উদ্বোধনি জুটিতে জমা করেন ৫৯ রান।

ইনিংসের ১০তম ওভারের তৃতীয় বলে নিউজিল্যান্ডকে প্রথম সাফল্য এনে দেন রাচিন রবীন্দ্র।

বাঁহাতি এই স্পিনারের বাইরের বল স্টাম্পে টেনে আনেন লিটন। ফিরেছেন ২৯ বলে ৩ চার ১ ছক্কায় ৩৩ রান করে।

ক্রিজে এসে প্রথম বলেই স্টাম্পিং মুশফিকুর রহিম। হ্যাটট্রিক সম্ভাবনা জাগে রবীন্দ্রের। বাংলাদেশকে অস্বস্তিতে পড়তে দেননি সাকিব আল হাসান।

তবে ২ চারে ৭ বলে ১২ রান করে ফিরতে হয় তাকেও। ম্যাককঞ্চির বলে বেন সিয়ার্সকে ক্যাচ দেন তিনি।

৭২ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর দলের হাল ধরেন নাঈম-মাহমুদউল্লাহ। চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৩৪ রান জমা করেন দুজন।

নাঈম ব্যক্তিগত ফিফটির দিকে ছুটছিলেন বটে, তবে ৩৯ রানে তাকে নিজের তৃতীয় শিকার বানিয়ে থামান রাচিন।

ক্রিজে এসে বেশিক্ষণ টিকেননি আফিফ হোসেনও (৩ বলে ৩)।

এরপর রানের গতি মন্থর হলেও শেষ দুই ওভারে মাহমুদউল্লাহও নুরুল হাসান সোহান ২৪ রান তুলে ১৪১ রানের দলীয় সংগ্রহ দাঁড় করান।

সোহান ৯ বলে ১৩ রান করে ইনিংসের শেষ বলে আউট হলেও মাহমুদউল্লাহ ৩২ বলে ৫ চারে ৩৭ রানে  অপরাজিত থাকেন।

কিউইদের হয়ে রাচিন রবীন্দ্র নেন সর্বোচ্চ ৩ উইকেট।

ফেসবুক পেজ লাইক করুন: https://www.facebook.com/Polnewsbd/

আমাদের টুইটার প্রোফাইল ফলো করুন: https://twitter.com/BdPolitical

Related Articles

আমাদের সোসাল মিডিয়া

সর্বশেষ সংবাদ

Translate »