মঙ্গলবার, অক্টোবর ২৬, ২০২১

আগামী নির্বাচনে বিএনপির নেতা কে? ওবায়দুল কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ড. কামাল হোসেনকে নেতার আসনে বসিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়া বিএনপি আগামী নির্বাচনে কাকে নেতা নির্বাচন করছে, তা দলটির কাছে জানতে চেয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেছেন, পলাতক-দণ্ডিত কেউ নেতা হলে তা কোনোদিনই এদেশের জনগণ নেতা হিসেবে তাকে মেনে নেবে না।

মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষ্যে এই সভার আয়োজন করে আওয়ামী লীগ।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীলকে উদ্দেশ্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘গতবার তো কামাল হোসেনকে এনে আপনারা নির্বাচনে নেতা বানিয়েছেন।

আমি আমার দলের পক্ষে, জোটের পক্ষে বলতে চাই, আগামী নির্বাচনে আমাদের প্রধানমন্ত্রী, আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা।

আপনাদের প্রধানমন্ত্রী কে? নির্বাচন করলে নির্বাচনে আপনাদের নেতা কে?

‘টেমস নদীর পার থেকে পলাতক দন্ডিত যদি নির্বাচনে নেতা হয়, পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর পরিচয় বহন করে বাংলাদেশে আপনাদের অপ্রাসঙ্গিক রাজনীতি আরো প্রাসঙ্গিক হয়ে যাবে।

জনগণ এই দণ্ডিত পলাতক নেতাকে কোনোদিনই এদেশের নির্বাচনে নেতা হিসেবে মেনে নেবে না।’

বিএনপির হাত ধরেই এদেশে গণতন্ত্র হত্যা হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, যারা দেশে গণতন্ত্র হত্যা করে বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে বহুদলীয় তামাশা, সুবিধাবাদ চালু করেছিলো; যাদের দলের অভ্যন্তরে নেই গণতন্ত্র চর্চা, তারা আজ গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলে।

‘মির্জা ফখরুল সাহেবকে প্রশ্ন করতে চাই, আপনি নির্বাচিত হয়ে কেন সংসদে এলেন না। এটা কোনা গণতন্ত্র। ভোটাধিকার নিয়ে তো আপনারাই ছিনিমিনি খেলেছেন।

হা না ভোটে সেনাপ্রধান থেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেছেন জিয়া। ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটারবিহীণ নির্বাচন করেছেন আপনারা।

এক কোটি ২৫ লক্ষ অস্তিত্বহীণ ভোটার সৃষ্টি করে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন। আশা করি জবাব দেবেন।’

পৃথিবীর অনান্য গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচন হয় বাংলাদেশেও সময় মতো সংবিধান অনুযায়ী ঠিক সেভাবেই নির্বাচন হবে জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাদারণ সম্পাদক বলেন, নির্বাচন নিয়ে আজকে মাঠ গরম করবেন, পানি ঘোলা করবেন, দেশে বিশৃঙ্খলা করবেন, পরিবেশ নষ্ট করবেন, অগ্নি-সন্ত্রাস করবেন, জ্বালাপোড়াও করবেন?’

‘পরিস্কার করে বলে দিতে চাই, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রস্তুত রয়েছে যে কোনো বিশৃঙ্খলা-সহিংসতার জবাব দিতে।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ৭৫ তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জন্মদিনে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, এদেশের রাজনীতিতে সততার অনুপম উদাহরন বঙ্গবন্ধু পরিবার। সরকার প্রধান হয়েও অতি সাধারণ জীবনযাপন করেন বঙ্গবন্ধু কন‌্যারা।

বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যার সংগ্রামমুখর সহজ-সরল নির্মোহ জীবনযাপনের মাঝেই আছে অন‌্যদের জন‌্য শিক্ষা।

তারা দু’জনই রত্মাগর্ভা মাতা। তাদের সন্তানরা গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসাননি। পরিশ্রম মেধা যোগ্যতায় তারা দীপ্তমান।

সভায় দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিএনপি বারবার হুমকি দিচ্ছে।

যারা স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী নয়, সেই বিএনপ্জিামায়াতের সন্ত্রাস আমরা ২০১৪ সালে দেখেছি। জীবন্ত দগ্ধ করেছিলো শত শত মানুষকে।

আবারো হুমকি দিচ্ছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য। বাংলাদেশে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বলে কোনো সরকার নেই।

এদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার আর কোনো দিন হবে না। পৃথিবীর কোথাও তত্ত্বাবধায়ক সরকার নেই।

যে সরকার ক্ষমতায় থাকে, সেই সরকারের সময়ে নির্বাচন হয়। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব নির্বাচন সুষ্ঠু করার।

সভায় দলের সভাপতিমন্ডলীর আরেক সদস্য আব্দুর রহমান বলেন,আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে পরিনত হয়েছে।

বিশ্বসভায় উন্নত জাতি হিসেবে আজকে স্বীকৃতি পাবার অপেক্ষায় রয়েছে। তা কেবলমাত্র সম্ভব হয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার জন্য।

শেখ হাসিনা আজকে অবিরাম পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তার জীবনে কোনো লোভ-মোহ-পাওয়ার আক্ঙ্ক্ষা নেই।

সাদামাটা জীবনযাপন করেন। তিনি তার জীবনকে মানুষের জন্য বিলিয়ে দিয়েছেন।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূলনের জন্য তিনি বলেছেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবেন।

শেখ হাসিনা সভায় দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে কমপক্ষে ২০ বার মৃত্যুর মুখে দাঁড়াতে হয়েছে। জেল-জুলুম থেকে তিনি রক্ষা পাননি।

এরশাদের স্বৈরশাসক থেকে শুরু করে এক-এগারোর সরকারের সময়ে তাকে কারাবরন করতে হয়েছিলো।

মিথ্যা-মামলা মোকাবিলা করতে হয়েছে। সেসব মোকাবিলা করে তিনি লক্ষ্যর দিকে এগিয়ে গেছেন।

তার সফল নেতৃত্বে কারনেই আওয়ামী লীগ ৪ বার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীণ হয়েছে।

দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে যুগান্তকারী অবদান রেখেছেন। দরিদ্র দেশ থেকে উন্নয়শীল দেশে পরিনত করেছেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুনীর সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন সভাপতিমন্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি, ড. হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংঘঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, শফিউল আলম নাদেল, মির্জা আজম,

দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন নাহার চাপা, ত্রান ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, উপ দপ্তর সায়েম খান প্রমুখ।

সভা সঞ্চলনায় করেন উপ প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম।

ফেসবুক পেজ লাইক করুন: https://www.facebook.com/Polnewsbd/

আমাদের টুইটার প্রোফাইল ফলো করুন: https://twitter.com/BdPolitica

Related Articles

আমাদের সোসাল মিডিয়া

সর্বশেষ সংবাদ

Translate »