শনিবার, মে ২১, ২০২২

দুই বছরের জন্য জাতীয় সরকার চান ডা. জাফরুল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে দুই বছরের জন্য জাতীয় সরকার চান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

বুধবার (০২ মার্চ) বিকালে স্বাধীনতার প্রথম পতাকা উত্তোলন দিবসের এক আলোচনা সভায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী এই দাবির কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, আমি ১ বছর আগের থেকে বলছি যে, অন্তুতঃপক্ষে দুই বছরের জন্য জাতীয় সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

জাতীয় সরকার প্রতিষ্ঠিত না হলে এদেশে কোনো ক্রমেই গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনা যাবে না, কোনো ক্রমেই সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না।

জাফরুল্লাহ বলেন, জাতীয় সরকারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো আওয়ামী লীগ। সেই সরকারে আওয়ামী লীগের  প্রতিনিধিও থাকবে।

হয়ত প্রতিনিধি শেখ রেহানাও হতে পারেন। আমি জানি না, সেটা আওয়ামী লীগের ব্যাপার।

জাতীয় সরকারে অন্যান্য আমাদের সকল রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি থাকবে, বিশিষ্ট দুই-চারজন নাগরিকও থাকতে পারেন। তারা সত্যিকার অর্থে ন্যায়-নীতি প্রতিষ্ঠা করবেন।

তিনি বলেন, দেশে ন্যায়-নীতি প্রতিষ্ঠা হলে অফিসিয়ালি রাষ্ট্রীয়ভাবে ২রা মার্চ পালিত হবে, ৩রা মার্চ পালিত হবে, ৭ মার্চ পালিত হবে।

স্বাধীনতার সত্যিকার ইতিহাস জানা যাবে। সেই সত্যিকার ইতিহাস কি? এক ব্যক্তি বাংলাদেশকে স্বাধীন করে নাই।

এই স্বাধীনতার পেছনে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর অবদান আছে, রবের অবদান আছে, আরো অবদান আছে সিরাজুল আলম খানের, আরো অবদান আছে জিয়াউর রহমানের।

সেই সময়ের ৩০ বছরের যুবক আসম আবদুর রব সাহস করে পতাকা উড়িয়েছিলে, সেইদিনও সাহস করে মেজর জিয়া্উর রহমান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন।

তাকে পাকিস্তানি চর বলা একটা নিমক হারামী, জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে কটুক্তি করা নিমক হারামী।

আজকে প্রবাসী সরকারকে মর্যাদা না দেয়া এটা অকৃজ্ঞতা।”

জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির উদ্যোগ স্বাধীনতার প্রথম পতাকা উত্তোলন দিবসের ৫১তম বছর উদযাপন উপলক্ষে ‘বাঙালির তৃতীয় জাগরণের মাইলফলক’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা হয়।

১৯৭১ সালে ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় স্বাধীনতার প্রথম পতাকা উত্তালনকারী ডাকসুর ততকালীন ভিপি আসম আবদুর রব।

২ মার্চ সম্পর্কে কোনো স্মৃতিচারণ করবেন না উল্লেখ করে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, এই সরকার সব খেয়ে ফেলতেছে, দেশটাকে খেয়ে ফেলতেছে, স্বাধীনতা খেয়ে ফেলতেছে, ২রা মার্চ খেয়ে ফেলতেছে সব খেয়ে ফেলতেছে। আমি আজকে ২ মার্চ সম্পর্কে একটি কথাও বলব না।

৫০ বছরের স্বাধীন বাংলাদেশকে বর্তমান সরকার নৈতিকভাবে ধবংস করে দিয়েছে। যে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে দেশ আমরা চেয়েছিলাম সেই দেশ কী আছে?

দেশটাকে ধবংস করে দিয়েছে, সকল প্রতিষ্ঠান ধবংস করে দিয়েছে, আইন ব্যবস্থা, প্রশাসন, শিল্প-সাহিত্য-কৃষ্টি সব কিছুই ধবংস করে দিয়েছে।

রাষ্ট্রের সকল বাহিনীকে কর্মী বাহিনীতে রুপান্তরীত করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের রাষ্ট্রকে দলীয় ও পারিবারিক সম্পত্তিতে রুপান্তরীত করেছে।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, স্বাধীনতায় যাদের অবদান কাউকে তারা(আওয়ামী লীগ) স্বীকার করছে না।

স্বাধীনতার সূর্বণ জয়ন্তী উদযাপন করছে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করে কিন্তু মওলানা ভাসানীর নাম একবারও উচ্চারণ করা হয় নাই, বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে যে তাজউদ্দিন আহমেদ সরকার চালিয়েছেন তার নাম একবারও উচ্চারণ করা হয় নাই, মুক্তিযুদ্ধে যিনি সর্বাধিনায়ক ছিলেন সেই জেনালে এম এ জি ওসমানীর নাম একবারও উচ্চারণ করা হয় নাই।”

সিরাজুল আলম খান ১৯৬২ সাল থেকে নিউক্লিয়াস করে প্রত্যেকটি আন্দোলনকে স্বাধীনতার দিকে নিয়ে গেছেন-আমিসহ তাদেরকে বিভিন্নভাবে অপমানিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

কোনো সেক্টার কমান্ডারের নাম উচ্চারিত হয় না। যিনি ৯ মাস যুদ্ধ করেছেন কাদের সিদ্দিকীর নাম একবারও উচ্চারণ করা হয় নাই।

স্বাধীনতার ইতিহাসকে একটা দল ও পরিবারের কাছে বলী দেয়া হয়েছে।”

‘সিপিবির কংগ্রস: রাজনীতিবিদরা শিক্ষা নিন’

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘‘ আমাদের সিপিবি(বাংলাদেশের কমিউনিস্টি পার্টি) খুব ভালো কিছু করতে পারছে না। কিন্তু তারা একটা ভালো কাজ করেছে।

তাদের কংগ্রেস থেকে আমাদের সকল রাজনৈতিক দলের শিক্ষার বিষয় আছে।

৩০ বছর বোধ হয় হবে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম (সভাপতি) সিপিবিকে দেখাশুনা করেছে, সংগঠনের উন্নতির চেষ্টা করেছেন।

কিন্তু যখন গোপন ভোট হয়েছে উনি ৩ নম্বরে গিয়ে হাজির হয়েছেন। উনার আগেই ছেড়ে দেয়া উচিত ছিলো।

সংবিধান বদলানোর চেষ্টা না করে। এটা আমাদের সকল রাজনীতিবিদদের শিক্ষনীয় বিষয় আছে।

আপনার পার্টির লোকজন তাদের হাতে ছেড়ে দেন না।

তারা আপনাকেই হয়ত করবে অথবা বৃহত্তর কারণে বলবে যে, এবারে আপনি যান, আপনি বিশ্রাম নেন,আমাদেরকে এই দলটা চালানোর…।”

সিপিবির দিকে অভিযোগের আঙ্গুল তুলে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘‘ আজকে আমাদের দেশে আন্দোলন গড়ে না উঠার একটা কারণ হচ্ছে এই সিপিবি।

আমি বিএনপির কথা বলতে চাই না। অনেকে মনে ক্ষুন্ন হন, সত্য কথা হজম করার শক্তি খুব বেশি লোকের নাই। সেটা আমার বক্তব্য।

ভুল করলে আমিই করেছি তার জন্য দূঃখ পাওয়ার কিছু নাই, কষ্ট পাওয়ার কিছু নাই।

জেএসডির কার্য্করী সভাপতি মোহাম্মদ সিরাজ মিয়ার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, জেএসডির আ স ম রব, গণফোরামের মোস্তফা মহসিন মন্টু, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী,

নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের জুনায়েদ সাকী, বাংলাদেশ গণ-অধিকার পরিষদের নুরুল হক নূর, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের হাসনাম কাউয়ুম,

জেএসডির ছানোয়ার হোসেন তালুকদার, তানিয়া রব, শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, বেলায়েত হোসেন বেলাল প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও অসুস্থতার জন্য তিনি ্ আসতে পারেননি বলে আয়োজকরা জানান।

ফেসবুক পেজ লাইক করুন: https://www.facebook.com/Polnewsbd/

আমাদের টুইটার প্রোফাইল ফলো করুন: https://twitter.com/BdPolitical

Related Articles

আমাদের সোসাল মিডিয়া

সর্বশেষ সংবাদ

Translate »